গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর রাতভর নির্ঘুম পায়চারি- মাঝরাতে হঠাৎ বাইরে!

সমগ্র বাংলাদেশ ও রাজধানীর সাথে গত রাতে ক্ষমতাসীনদের বাড়িগুলো ছিল অস্থির। সন্ধার পরে থেকে পুলিশ র‌্যাব বিজিবির গাড়ি সাই সাই করে ছুটে চলছে শহর থেকে থানা উপজেলা থানার দিকে। লোকজন ভয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে- ঠিক যেনো একাত্তরের ২৫ শে মার্চ রাত। পার্থক্য কেবল তখন ছিল পাকবাহিনী, আর এবারে বাংলাদেশের নিজস্ব ফোর্স। দু’টি ক্ষেত্রেই টার্গেটে নিরস্ত্র জনতা। এ অবস্থায় দুঃচিন্তায় ঘুমাতে পারছেননা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পায়চারি করে বেড়াচ্ছেন। হঠাৎ হঠাৎ দু’একটা ফোন বেজে উঠছে, কোনো ধরেন আবার কোনোটা ধরেননা। বাসার স্টাফরা কেউই বাসায় যেতে পারেনি, সবাই নিকটেই অবস্থান করছিল। বিভিন্ন পোস্টের নিরাপত্তা রক্ষীরা সবাই তটস্থ।

এরি মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেঃজেঃ (অবঃ) তারিক সিদ্দিক, সামরিক সচিব মেঃজেঃ জয়নাল আবেদিন,  এবং এসএসএফ ডিজি মেঃ জেনারেল শফিকুর মহাব্যস্ত! কয়েকটা ফোনে অনরবত কল আসছে। এসএসএফ সিপিজি সহ সিকিউরিটি এজেন্সির অফিসাররা, এডিসি সহ বিশ্বস্ত কিছু পারসোনাল অফিসাররা সবাই বিভিন্ন রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কেউ বসে বা আধা শোয়া বিশ্রাম করছিলেন কেউ কেউ। অবশ্য সকলেই চিন্তিত, মুখ ভার। কেউ কেউ এক আধটা জোকস বলে পরিবেশ হালকা করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু জমে উঠেছে না। কেউ কেউ বাথরুমে গিয়ে ধুমপান করে টেনশনা কমানোর চেষ্টা করছিলেন।

হঠাৎ মাস্টার রুমের কলিং বেল বেজে উঠে। দৌড়ে ছুটে যায় এডিসি এবং তারিক সিদ্দিক। পাঁচ মিনিটে সব স্টান্ড বাই। সিপিজি কমান্ডার তার বাহিনী ও অন্যান্য এজেন্সির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে রেডি সিগনাল দেন। শাড়ি বদলে শাল পড়ে বেরিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা। গাড়িতে উঠে বসলেন। ভবনের ভেতরের গেটের বাতি নিভিয়ে সা সা করে বেরিয়ে গেলো ১৭টি গাড়ি। লেক রোড ধরে গুলশানের পথে চলছে মটরকেড। ঘড়িতে রাত ৩টা ১৭ মিনিট। কোনো বিশেষ খবর পেয়ে গণভবনের বাইরে এ অবস্থান।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.