সিনহার পথে বিচারপতি ওয়াহ্হাব- পদত্যাগ করেননি- অঘোষিত হাউজ এরেস্ট!

অবৈধ  শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হয়েছে বিচারপ তি ওয়াহ্হাব মিয়া পদত্যাগ করেছেন। আসলে তা সত্যি নয়। মূলতঃ বিচারপতি সিনহার ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছেন ওয়াহ্হাব।

বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করেছেন সরকার দাবী করলেও আসলে তা সত্যি ছিল না। তিনি কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বরং ঐ কৌশল অবলম্বন করে তাকে দেশে ফিরতে না দিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক অবসরে পাঠানো হয় ৩১ জানুয়ারি। বিচারপতি ওয়াহবের কপালেও তাই জুটেছে। তিনিও পদত্যাগ করেননি। তার নামে একটা পদত্যাগপত্র দেখানো হয়েছে, সেটা আসলে তার সই নয়। বরং তাকে গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাঁর নামে কথিত পদত্যাগপত্রও সিনহার নামে বানোয়াট পদত্যাগপত্রের মত গেজেট হবে না। তবে তাঁকে এজলাসে বসতে দেয়া হবে না, সুপ্রিম কোর্টের জাজ তালিকায় নামও থাকবে না। মেয়াদ শেষে নভেম্বরে তার স্বাভাবিক অবসর হতে পারে বিচারপতি ওয়াহ্হাবের।

গত  ‍শুক্রবার ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নাম প্রকাশ করে বঙ্গভবন। এর আগের রাতে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে কুমন্ত্রণা করে আসে। পরের দিন শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি অফিসে যান। সরকারের কাছে খবর আসতে থাকে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি অনাস্থা জানাতে পারেন সদ্য ঘোষিত প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেনকে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২২ আগস্টের রায় প্রকাশ হতে পারে।  এরপরেই ঘটতে থাকে নানান নাটকীয় ঘটনা। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২২ আগস্টের রায় থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ঐ সময়ের মধ্যে রায় সংশোধন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ঐ সময়ে আইন সচিব পিস্তল দুলালের কর্মকান্ড শুরু হয়ে যায়। সিনহার উপরে ব্যবহার করা পদ্ধতিতে বিচারপতি ওয়াহাব পদত্যাগ করেছেন ব্রেকিং খবর  প্রচার হতে থাকে। পরে মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়া হয় তিন লাইনের একটি বানোয়াট পদত্যাপত্র, যার মধ্যে দশটা বানান ভুল, এমনকি সুপ্রিমকোর্ট, আপিল বিভাগ, মহাত্মন, বিশ্বস্ত এরকম সাধারণ বানানগুলো সঠিক ছিলো না।  রাত পৌনে দশটায় বিচারপতি ওয়াহাব বাসায় ফিরে যান। এরপর রমনা থানার ওসির নেতৃত্বে এসআই আজাদ সহ প্রচুর পুলিশ গিয়ে বিচারপতির ওয়াহ্হাবের বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালায়। ল্যাপটপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন দলিল তুলে নিয়ে যায়। চাপ প্রয়োগ করে কিছু কাগজপত্রে সই করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের শপথ গ্রহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন ওয়াহহাব মিঞা এমন আশংকায় তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় শনিবার শপথ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। তবে বন্দি দশা শিথিল করা হলেও তার বাসায় আজও কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।  তিনি বাড়ির ভেতরেও নজরদারীতে আছেন- কোথাও কথা বলতে পারছেন না। আইনজীবি ও সাংবাদিকরা গিয়ে বিচারপতি ওহাবকে অন্তরীণ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের সর্বজ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা শেখ হাসিনার সরকার কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে রায় ও মত দেন। যার ফলে আওয়ামীলীগ সরকারকে অনেক বিপদে পড়তে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন অনু্ষ্ঠানের সরকারী আগ্রহকে নাকচ করেছিলেন বিচারপতি ওয়াহাব। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্খাকে সংবিধান সম্মত হিসাবে ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের বিরোধপূর্ন রাজনীাততে এই ব্যবস্থাই গ্রহনযোগ্য বলে মত দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দিতে সরকার যখন মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন বিচারপতি ওয়াহাব তাকে দিয়েছিলেন খালাস। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের পরে বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পরে ২২ আগস্ট আপিল বিভাগের বাকী পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে  দেয়া রায়ে বর্তমান বিনাভোটের  সংসদ ও সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়া। সেই রায় প্রকাশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সাথে বিরোধের জের ধরে তাঁকে সিনহার ভাগ্য বরণ করতে হয়।

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.