আগামী ক’দিনে কি ঘটতে যাচ্ছে বঙ্গভবনে?

আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা হঠাৎ দুলে উঠেছে। অনেকেই শশ ব্যস্ত। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নড়াচড়া করছে। সন্ধ্যায় বিশাল লটবহর অস্বাভাবিক বেশী নিরাপত্তা নিয়ে বঙ্গভবনে হঠাৎ দৌড়ে গেলো বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। দিনের বেলায় সেনাপ্রধান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিও নাকি দেখা করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে! দ্বিতীয় দফায় হামিদ সাহেব রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন- তাই বিশিষ্টরা গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যাচ্ছেন কি? যদিও সরকারী তরফ থেকে খবর প্রকাশ করা হয়েছে হামিদকে দ্বিতীয় দফায় নমিনেশন দিয়ে সেটা কনফার্ম করতে হাসিনা গেছে! এটা ফালতু অযুহাত। আসলে তা নয়। মূলত ক্ষমতা পতনের মুখে। কি করে ধরে রাখবে, হামিদের সাথে সেই ফন্দি আটতে গেছে।

 
আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি। সেনা শহীদ দিবস এবং ভাষা শহীদ দিবসের মাস শুরু। ১ তারিখটা অন্য কারণেও খুব গুরুত্বপূর্ন ছিল। আজকে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা দিতে পারেননি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি এ কাজটি করার কথা একাকী, সরকারের সাথে পরামর্শ ছাড়াই। সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতে হবে না।
 
এখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হলে সিনিয়র মোস্ট হিসাবে বিচারপতি ওয়াহাব মিঞাই হওয়ার কথা প্রধান বিচারপতি। কিন্তু একদিন পার হওয়ার পরেও সেটা করেননি রাষ্ট্রপতি হামিদ। মোটকথা বিচারপতি ওয়াহ্হাবের একটা করে দিন নষ্ট করা শুরু করলেন হামিদ। আর যদি রাষ্ট্রপতি হামিদ চালাকি করে ওয়াহ্হাব মিয়াকে বঞ্ছিত করে, তবে অবৈধ সরকার ফেলে দেয়ার মত টুলস বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়ার হাতে আছে। তাহলে প্রশ্ন- কে কোনটা ব্যবহার করবে?
 
এর আগের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার জন্মতারিখ অনুযায়ী গতকাল ছিল তাঁর শেষ কর্ম দিবস, যদিও তিনি প্রাণভয়ে দেশের মাটিতে পা রাখতে পারেননি গত তিন মাস! তবে নতুন প্রধান বিচাপতি নিয়োগ করা যাবে কি না, তা নিয়ে দু’টো বিষয়ে বিতর্ক জিইয়ে রইল –
 
প্রথমত, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার এতদিন ধরে যেভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিল- বিচারপতি সিনহা সিঙ্গাপুরে পদত্যাগ করেছেন, সেটার কি হবে? সেটা যে পদত্যাগপত্র ছিল না, তা এতদিনে সবাই জেনে বুঝে গেছে। তাহলে এই মিথ্যুক ও প্রতারক সরকারের কি বিচার হবে?
 
আর দ্বিতীয়ত, বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশ করতে গিয়ে সংবিধানে যে পরিবর্তন করেছেন, তাতে প্রধান বিচারপতি সহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের কোনো অবসরের সময়সীমা নাই, অর্থাৎ আমৃত্যু! ষোড়শ সংশোধনীর রায় রিভিউ করে অবসরের বয়স সংক্রান্ত বিধান ঠিক করা না হলে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা সম্ভব কি না?
 
সার্বিক অবস্খায় প্রশ্ন উঠেছে- ক্ষমতা চেয়ারে থাকবে কে, আর বিদায়ই বা নিচ্ছে কে? হাসিনা বিদায়? নাকি ওয়াহাব বিদায়? নাকি দু’জনেই থাকবে? আগামী কয়েকটা দিন বঙ্গভবনে সাংঘাতিক সাংঘাতিক ঘটনা ঘটার আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে।
 
এখন ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি করা হলে- মহা বিপদ মাথায় নিতে হবে হাসিনার (কালা মানিকের ভাস্য)!
অন্যদিকে ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি না করলে- হাসিনার সংসদ, সরকার পতনের চাবিকাঠি ওয়াহ্হাব মিয়ার হাতে। তখন হাসিনার সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি হামিদের ১৮ তারিখের নির্বাচন কোথায় যাবে কে জানে? সবকিছু নির্ভর করছে- কে কোন্ কার্ড কখন খেলে – তার উপর!
 
উত্তরপাড়া থেকে বলা হচ্ছে – কিপ ইওর ফিঙ্গার ক্রসড!
Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.