আততায়ী আতংকে সেই বিচারক

শেখ হাসিনাকে খুশি করতে বিচারের নামে অবিচার করতে গিয়ে এখন আততায়ী আতঙ্কে প্রায় গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটছে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর উচ্চাভিলাষী বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের। শেখ হাসিনার নিয়োজিত আততায়ীর পিস্তলের নিশানা তাকে প্রাণ সংহার ভীতির অস্থিরতায় ডুবিয়ে রেখেছে। বিচারের রায় কি হবে সেটি এখনো অজানা। যদিও এটর্নী জেনারেল, মন্ত্রী শাহজাহান খানসহ কয়েকজন মন্ত্রী এমপি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, বেগম জিয়াকে জেলে যেতে হবে। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বানোয়াট কাগজ দিয়ে দায়ের করা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথিত ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা’র শুনানির সময় খালেদা জিয়ার আদালতে উপস্থিতি নিয়ে তার সঙ্গে নিম্ন আদালতের জজ আখতারুজ্জামানের যে ধরণের অমানবিক ও দুর্বৃত্তায়িত আচরণ করেছেন, তাতে এরই মধ্যে তার সম্পর্কে দেশের জনগণের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে,কোনো এক রহস্যজনক কারণে এই মামলা নিয়ে খুবই তাড়াহুড়া করছেন জজ আখতারুজ্জামান। এ মামলা নিয়ে একদিকে শেখ হাসিনার নির্দেশনা অপরদিকে ব্যাংক ডাকাত সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের খবরদারি এবং পাশাপাশি আইন সচিব পিস্তল দুলালের নজরদারি সব মিলিয়ে এখন মহাআতঙ্কে বিচারক আখতারুজ্জামান। এখন কার্যতঃ তাকে গৃহঅন্তরালে পুলিশী প্রহরায় রাখা হয়েছে।

জজ আখতারুজ্জামান ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র।বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিসের চাকরিতে যোগদান করেন। সহপাঠি এক ঘনিষ্ট বন্ধুর সঙ্গে সম্প্রতি নিজের উদ্বেগ এবং জীবনহানির আশংকার কথা জানিয়েছেন আখতারুজ্জামান। আততায়ী কিংবা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকেই নিজের চরম ক্ষতির আশংকা করছেন আখতারুজ্জামান।

আখতারুজ্জামান তার বন্ধুর সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, এই মামলাটির তেমন কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এই মামলার প্রথম বিচারক বাসুদেব রায় আইন সচিব পিস্তল দুলালের নির্দেশে চার্জ গঠন করেছেন যুক্তিহীনভাবে। কিন্তু এই মামলাটি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তার উপর মারাত্মক প্রেশার সৃষ্টি করা হচ্ছে। উচ্চাভিলাশি আখতারুজ্জামানের পরিবারও তার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারাও তাকে নানাভাবে বুঝিয়েছে, সরকারের কথায় উল্টাসিধা রায় দেয়া থেকে নিরস্ত থাকতে। পারিবারিক একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা উদ্বিগ্ন এ কারনে যে, শেখ হাসিনা অত্যন্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং আত্মকেন্দ্রিক। নিজের প্রয়োজনে ইমরান সরকারকে ব্যবহার করেছিল শেখ হাসিনা। কাজ উদ্ধার শেষে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন সরকারের হামলা মামলার শিকার ইমরান। এখন ছাত্রলীগের চড় থাপ্পড়ের ভয় ইমরান সরকারকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। শেখ হাসিনার স্বার্থ রক্ষায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজের মতো আইনের ব্যাখ্যা করে অনেকের জেল ফাঁসি দিয়েছেন। সিনহাকে ব্যবহার করে কার্য উদ্ধার শেষে ‘পাগল ছাগল এবং রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে অতিউৎসাহী সিনহাকে দেশ ছাড়া করেছেন শেখ হাসিনা।

এসব কারণে এখন আখতারুজ্জামান বুঝে গেছেন সে এখন আওয়ামী লীগের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। তাকে দিয়ে কার্য উদ্ধার শেষে যে কোনো সময় আওয়ামীলীগের ভাড়াটে খুনী তাকে হত্যা করবে। তারপর বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে ঘোলা পানিতে স্বার্থসিদ্ধি করবে। কারণ কাজ উদ্ধার হয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা কাউকেই রেহাই দেননা। আখতারুজ্জামানকে সরিয়ে না দিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না।

জানা যায়, লোভে পড়ে আওয়ামী ফাঁদে পা দিয়েছিলেন রংপুর জেলার মঙ্গাপীড়িত কাউনিয়া উপজেলার ৫ নং বালাপাড়া ইউনিয়নের নাম হরিশ্বর গ্রামের হতদরিদ্র রইছ উদ্দিনের পুত্র আখতারুজ্জামান। কাউনিয়াতেই স্কুলের পাঠ চুকিয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন ছাত্রলীগের ক্যাডার। তবে সেই সময় ক্যাম্পাসে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে জাসদ ছাত্রলীগের দুধর্ষ সন্ত্রাসী রুহুল কুদ্দুস বাবু ওরফে কিলার বাবুর সঙ্গে। উলেখ্য, রুহুল কুদ্দুস বাবু বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে আখতারুজ্জামান মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশুনা শেষ করেই বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকুরীতে ঢুকেন আখতারুজ্জামান। এরপরই ছাত্র রাজনীতির সময়কার সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে নানা ফাঁক ফোকর দিয়ে ভাগ্য বদলাতে থাকেন আখতারুজ্জামান। এখন তার টাকার অভাব নেই। ঢাকায় চারটি বাড়ী-ফ্লাট, উত্তরা ও পুর্বাচলে একাধিক প্লট , একটি অভিজাত মার্কেটে দুইটি দোকান স্পেস এর মালিক তিনি। তার বন্ধুটি জানান, বেগম জিয়ার মামলা দ্রুত শেষ করে তার বিরুদ্ধে রায় দেয়ার বিনিময়ে আখতার প্রমোশনের লোঝে পড়েছেন- হাইকোর্টের জজ হবে! নগদ কয়েক কোটি টাকা পেয়েছেন ইতিমধ্যে। কানাডা ও মালয়েশিয়ায় বাড়ীও কিনেছেন আখতারুজ্জামান। ঢাকার প্রতিবন্ধী স্কুলে অধ্যয়নরত আখতারুজ্জামানের এক মাত্র সন্তানকে উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য রায়ের পর বিদেশে যেতে চায় সে।

আখতারুজ্জামান এই মামলা দিয়ে শেখ হাসিনাকে খুশি করে মঞ্জিলে মকসুদে পৌছে যেতে চান। তার শ্বশুর বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসায়ও জজ সাহেবের উচ্চাকাংখার কথা জানাজানি হয়ে গেছে। আখতারুজ্জমান এখন নিশ্চিত আভাস পাচ্ছেন তার ঘাড়ে বন্দুক রেখে কাজ হাসিল করে শেষ পর্যন্ত এই আওয়ামী লীগই তাঁর জীবনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে যাচ্ছে।

রাজশাহীর বন্ধুকে আখতারুজ্জামান আরো বলেছেন, অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে যেভাবে আওয়ামী লীগ ফাঁসিয়ে দিয়েছে তাঁকেও একইভাবে ফাঁসিয়ে দেয়া হতে পারে অথবা তাকে হত্যা করতে পারে সরকারের কিলাররা। তার রেহাই পাওয়ার পথ নেই। তবে আখতারুজ্জামানের বন্ধুটি তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “আখতার, তুমি যদি শেখ হাসিনার এই মৃত্যুচক্র বুহ্য থেকে পরিত্রাণ চাও তবে সাহসী হয়ে ন্যায্য বিচার করো। সঠিক রায় দাও। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও জালজালিয়াতির মামলার সঠিক রায় ঘোষণা করো। জনগনকে সত্যটা নিজের মুখে জানিয়ে দাও। তোমার ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কিছু করো। তোমার সামনে ইতিহাস অপেক্ষা করছে। হাসিনার নির্দেশিত রায় ছিড়ে ফেলো। তুমি পিস্তল দুলালের লেখা রায় ঘোষণা করলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যেতে পারে। সঠিক রায় দিলে শান্তি ফিরে আসতে পারে। ন্যায় বিচার করলে হয়ত হাসিনা তোমার বিরুদ্ধে রুষ্ট হবে বটে, তবে তোমার খুব বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। দেশের সব জনগনের সেন্টিমেন্ট তোমার পক্ষে থাকবে তখন।”
বন্ধুটি আখতারুজ্জামানকে বলেছেন, আখতার, তুমি সিদ্ধান্তে নাও, তুমি হিরো হতে চাও? না এদেশের নিকৃষ্ট ভিলেন? তুমি নরকের কীট হতে চাও? না মানুষের অভিনন্দন ধন্য?

তুমি কি শেখ হাসিনার উচ্ছিষ্ট হয়ে প্রাণ-সংহারে নিজেকে সঁপে দিবে? নাকি বীর হয়ে বাঁচতে চাও। সিদ্ধান্ত নাও।

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.