ইউকে বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে তারেক রহমানকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার

আশিক ইসলাম : : সম্প্রতি লন্ডন বিএনপির কমিটি নিয়ে আওয়ামী অনলাইন পোর্টাল এবং ফেইসবুকে দু’একজনের লেখা পড়ে দুঃখের সাথে লন্ডন বিএনপির নেতা কর্মীর উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক জেলা ৭২টি। এর মধ্যে বাংলাদেশের বাইরে কিছু দেশের কমিটি একটি জেলার মর্যাদা পেয়ে থাকে। বাংলাদেশের বাইরে যে সকল দেশে বিএনপির কমিটিকে জেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় এরমধ্যে প্রথমেই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এরপর সৌদি আরব, মালয়শিয়া এবং ইউকে। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই, গত কয়েকবছর ধরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করায় ইউকের বিএনপির কার্যক্রমের প্রতি দেশে বিদেশে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। তারেক রহমান লন্ডন থাকায় গত কয়েক বছর ইউকে বিএনপি আয়োজিত বেশকিছু কর্মসূচিতে তিনি গিয়েছেন। অনেকের সাথে কথা বলেছেন, সাক্ষাত দিয়েছেন, অনেকের সুখ দুঃখের খোঁজ খবর নিয়েছেন বা নেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের এই ভালোবাসাকে কেউ যদি বুঝতে ব্যর্থ হন কিংবা অবমূল্যায়ন করেন, সেটি তাদেরই সীমাবদ্ধতা। তারেক রহমানের নয়।

একটা জেলা কমিটির মর্যাদাপ্রাপ্ত বিদেশ কমিটি নিয়ে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে যারা কথা বলছেন, তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, যারা এতদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলের ভবিষ্যত কান্ডারি তারেক রহমানকে কাছে পেয়েছেন, আপনারা অনেক সৌভাগ্যবান। আপনারা সৌভাগ্যবান, তারেক রহমানের কাছে যেতে পেরেছেন। আপনারা সৌভাগ্যবান, এতদিনে তারেক রহমান আপনাদের ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, জানেন, ডাকেন এবং পাশে বসান। তারেক রহমান লন্ডনে থাকার কারনেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে সফর করেন এবং সেই সুবাদে আপনারা চেয়ারপারসনের সাক্ষাতও পেয়েছেন, গুরুত্ব পেয়েছেন। সারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সকল জেলা এবং দেশের বাইরের সকল বিদেশ কমিটির লাখো কোটি নেতা কর্মী তীর্থের কাকের মত বছরের পর বছর প্রতীক্ষা করে থাকেন, কবে তারা তাদের প্রণপ্রিয় নেত্রী এবং প্রাণপ্রিয় নেতাকে কাছে পাবেন, কথা বলবেন, সালাম দিবেন। সেদিন দিয়ে আপনারা অনেক ভাগ্যবান।

কিন্তু দুঃখজনক, ইউকে বিএপির কিছু কিছু নেতা বর্ণচোরার বেশে দল ও তারেক রহমানের ইমেজের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। তারা আওয়ামী পত্রিকার সাথে আঁতাত করে নিজেদের তুচ্ছ ফায়দা লুটার চেষ্টায় মত্ত। যারা তারেক রহমানের কাছে যত বেশী যেতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে অনেক বড় পন্ডিত কিংবা ওভার স্মার্ট ভাবতে শুরু করেছেন। ইউকে’তে যাওয়া আসার কারনে এদের কয়েকজনকে আমি চিনি রাজনীতির নামে যাদের কর্মকান্ড প্রায়শই দল ও দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের হীন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পায়। তারা তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে কখনো কখনো নামসর্বস্ব পত্রপত্রিকা কিংবা অনলাইনে বাজে কথা লেখাতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এমনকি কোনো অহেতুক বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়েও তারা তারেক রহমানের নাম জড়াতে লজ্জাবোধ করেন না।

দল ও দেশের জন্য এই শ্রেণীটি ভয়ংকর। তারা নেতার ভালোবাসাকে দুর্বলতা ভাবে। তারা নোংরামি করে বারবার নিজেদেরকে অযোগ্যতা প্রমান করে। তারা আওয়ামী মিডিয়ার সাথে আঁতাত করে নিজেদেরকে শক্তিশালী ভাবতে চেষ্টা করে। কিন্তু তারা ভুলে যায়, নেতৃত্বের প্রতি অবিচল না থাকার অর্থই হল বিশ্বাসঘাতকতা। তারা ভুলে যায়, দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশ নায়ক তারেক রহমানের কাছে দলের মধ্যে কোন দল বা উপদল নাই। দলের প্রতিটি নেতা কর্মী তাঁর এবং তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ন। প্রতিটি কর্মীর জন্যই তাদের প্রাণ কাঁদে। বিশাল এই দলে কর্মই যোগ্যতা ও সফলতার মাপকাঠি। ধৈর্য্যই পরীক্ষা।

সম্প্রতি ইউকে বিএনপির একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্র সম্পর্কে যারা অবগত তারা জানেন, জেলা পর্যায়ের এই ধরণের কমিটি গঠনে সরাসরি দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করেন না। বরং কমিটি গঠন হয় যথানিয়মে। এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় বিজয়ী কিংবা বিজিত সবাই দলের শীর্ষনেতাদের কাছে গ্রহণীয়। কারণ সবাই দলের নেতা কর্মী, আর কে কখন কিভাবে কি দায়িত্ব পালন করবে সেটাও দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেরই অংশ। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে, ইউকে বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’একটি অনলাইন এবং একজন ভন্ড পীরের কতিপয় মুরিদ অপ্রাসঙ্গিকভাবেই তারেক রহমানকে জড়িয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে নানা গালগল্প তৈরী করে প্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের সঙ্গে হাতে মিলিয়ে তারেক রহমানের ইমেজ বিনষ্ট করতে ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই লিখে যাচ্ছে। স্পর্ধার সীমা ছাড়িয়ে, নীতি নৈতিকতা অমান্য করে জবাব চাইছে। আর এদেরকে আড়াল থেকে সহযোগিতা করছে বিএনপি নামধারী কিছু আওয়ামী প্রেতাত্মা।

এইসব চুনোপুঁটিদের জেনে রাখা দরকার, তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বছরের পর বছর ধরে তারেক রহমানের ইমেজ নষ্ট করতে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এইসব অপপ্রচারে জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী সমর্থকরা বিভ্রান্ত নয়।

সবশেষে, ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই- নিয়মিতভাবেই প্রতি দুই বছর পর পর যথানিয়মে ইউকে বিএনপির কমিটি গঠিত হচ্ছে। কিন্তু ২০১০ সালে ইউকে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের আর কোনো কমিটি হচ্ছেনা। সাংবাদিকতার নামে যারা ইউকে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছেন, তাদের মনে কি এই প্রশ্ন নেই যে, নিয়মিতভাবে ইউকে বিএনপির কমিটি গঠিত হলেও কেন হচ্ছেনা ইউকে আওয়ামী লীগের কমিটি?

Facebook Comments