“It’s a DGFI Work”

 

“কাজটা ডিজিএফআই করেছে”- মারুফ জামান গুম হওয়া প্রসঙ্গে বললেন একজন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ঢাকা থেকে গুম হয়েছেন গত সোমবার সন্ধায়।মেয়েকে আনতে সাড়ে ৬টার দিকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে নিজে ড্রাইভ করে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। পথিমধ্যে তার গাড়ির গতিরোধ করে ডিজিএফআইর কয়েক সদস্য। অস্ত্রের মুখে তাকে গাড়ি থেকে টেটে হিচড়ে ওঠায় মাইক্রোবাসে। এরপর সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় দু’টি অজ্ঞাত নম্বর (একটি ০০০১২৩৪৫৬, অপরটি পি) থেকে ল্যান্ড ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে মারুফ জামান নিজেই তার কাজের লোককে বলেন, কয়েকজন লোক যাবে বাসায়। তাদের ল্যাপটপ সহ আর যা যা নিতে চায় নিতে দিও। য়ে যাবে। এর আধাঘণ্টা পর তিনজন সুঠামদেহী লোক মুখে মাস্ক লাগিয়ে ঢুকে পড়ে বাসায়। এসে মারুফ জামানের ব্যবহার্য কম্পিউটারের সিপিইউ, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে চলে যায়। এছাড়া বাসার আর কোনো কিছুই তারা নেয়নি।

এদিকে বেলজিয়াম থেকে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাবার অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে সামিহা জামান। কিন্তু তিনি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে এবং বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়ায় উবারে করে বাসায় ফেরেন। বাসায় এসে এম মারুফ জামানকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাতভর অপেক্ষার পর মারুফ জামানের কোন খোঁজ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন তার মেয়ে সামিহা জামান। মারুফ জামান কাতার ও ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের বাংলদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (৬ষ্ঠ শর্ট কোর্স) ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এদিকে মারুফ জামান অপহৃত হওয়ার পরেই সংস্থার লোকেরাই পুলিশকে জানিয়ে দেয় বসুন্ধরা তিনশ’ ফুট রাস্তার পাশ থেকে গাড়িটি নিয়ে যেতে। অক্ষত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনে মারুফ জামানের মোবাইল ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে তার সর্বশেষ অবস্থান বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী স্থান কাওলায়।

মারুফ জামান গুম হওয়ার পরে পরিবারের লোকেদের দায়ের করা জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও গোয়েন্দারা নানান নাটক কেরে যাচ্ছে। বাাস্তব ঘটনা সবই তারা জানে। তারপরও ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, সাবেক এই রাষ্ট্রদূতকে খুঁজে পেতে সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে নম্বরবিহীন ফোন থেকে ল্যান্ডফোনে মারুফ জামানের ফোন করিয়ে সুঠামদেহী তিন ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মুলত, মারুফ জামানকে আটক করা হয় সরকার বিরোধী বা সরকার পতনের কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সন্দেহে। জানা গেছে, এই কূটনীতিক কোনো দলের পক্ষে বিপক্ষে তেমন কিছু করেন না। বরং কিছু আগে তাঁর স্ত্রী এবং তারও আগে পিতা মারা যাওয়ার পরে তিনি একাকীত্বে ভুগছিলেন। কখন কখনও একটু বেশি কথাবার্তা বলে থাকেন, যা অনেকের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। বাস্তবে তিনি একজন নির্বিষ মানুষ। তবে একজন ক্যারিয়ার রাষ্ট্রদূতকে এভাবে অপহরন ও গুম করায় সচিবালয়ে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালায় কর্মকর্তারা সাংঘাতিক বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ। অন্যদিকে ঢাকার ও বিদেশে বাংলাদেশী কূটনীতিক মহলে হতাশা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন পশ্চিমা কূটনীতিক বললেন, It’s a DGFI Work and it’s Rubbish!

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.