ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ডঃ জুনিয়র এক ডিআইজির বাড়াবাড়িতে আইজিপি জাবেদ হয়রাণ!

বিশেষ প্রতিবেদন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ড। পুলিশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা করে ও সরকারী এটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের একান্ত অনুগত একেএম শহিদুল হকের আইজিপি পদে নিয়োগ থেকেই পুলিশের বিশৃঙ্খলার শুরু হয় যা এখন চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় এসে পড়েছে। জনশ্রুতি আছে, শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া (ডিএমপি কমিশনার) তাঁদের এ পদে পদায়নের জন্য রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এক নিকটাত্মীয়ের সাথে ৩০ কোটি টাকার প্যাকেজে ডিল হয়েছিল। জনাব শহীদের ব্যাচের ১ম ব্যক্তি জাভেদ পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে ব্যাচের ১৪তম ব্যক্তিকে পুলিশ প্রধান করায় মেরিট লিস্টের প্রথমদিকে থাকা পুলিশ অফিসাররা হতাশ হয়ে পড়ে। এই সময়ে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্সের ডিআইজি হাবিব (১৭ ব্যাচ, বাড়ি গোপালগঞ্জ) যথেচ্ছভাবে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে গুটিকয়েক অফিসারকে বারংবার পদায়ন করায় নিরপেক্ষ পুলিশ অফিসার, এমনকি আওয়ামীপন্থী যারা হাবিবকে তোষামোদ করেনি, তারাও ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হওয়ায় তাদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এসময়ে প্রলয় জোয়ার্দার (২৫ ব্যাচ, স্ত্রী এনএসআই এর গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত)কে ২/৩ ব্যাচ ডিঙ্গিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি করায় পুলিশে বিস্ফোরনমূখ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাবিবের প্রস্তাবিত পদায়নে প্রলয় তার স্ত্রীর প্রভাবে অনেকের পদোন্নতি ও পদায়ন এনএসআই ক্লিয়ারেন্স বিরূপ থাকার অজুহাতে আটকে দিয়ে হাবিবের বিরাগভাজন হলেও তৎকালীন আইজি শহিদুল হকের পৃষ্ঠপোষকতায় বহাল তবিয়তে ছিল। জাভেদ পাটোয়ারী আইজি হওয়ার পর প্রলয়কে পুলিশ হেযকোয়ার্টার্স থেকে চলে যেতে হয় এবং তার অনুসারীরা আইজির প্রকাশ্য বিরোধীতা করতে থাকে। এ সময়ে ডিআইজি হাবিব নিজেকে আইজির চেয়েও বেশী শক্তিশালী হিসাবে জাহির করে এবং এর ফলে তার সাথে সংঘাত শুরু হয় অতিরিক্তি আইজি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমানের। শহিদুল হকের পর আইজি পদ-প্রত্যাশী মোখলেছুর রহমানকে অতিঃ আইজি (প্রশাসন) এর গুরু-দায়িত্বে পদায়ন করা হলেও হাবিব তাকে পাশ কাটিয়ে পুলিশের সকল স্তরের পদোন্নতি ও পদায়নে স্বৈরাচারী মনোভাব অব্যাহত রাখে যাতে আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ও অতিঃ আইজি মোখলেছ প্রচন্ডভাবে রুষ্ট হন। এতে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্স ও অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত তাঁদের অনুগত অন্যান্য অফিসারদের মধ্যে বিভাজন এখন সুস্পষ্ট।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রাক্তন ৩ জন আইজির সাজা হওয়ায় আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ভবিষ্যতে এমন পরিনতি এড়াতে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা রুজুর বিপক্ষে থাকলেও ডিআইজি হাবিব তা জোর করে বাস্তবায়ন করানোয় তাদের মনোমালিন্য এখন তুঙ্গে। পক্ষান্তরে হাবিবের একান্ত সহযোগী তার ব্যাচের ডিআইজি ডঃ খন্দকার শহীদ, আনোয়ার, হাফিজ, বাতেন ও অতিঃ ডিআইজি মঞ্জুরুল কবির, নাজমুল, ১৮ ব্যাচের মোজাম্মেল, মনিরুজ্জামান, আসাদুজ্জামান, ২০ ব্যাচের এসপি মইনুল (নারায়নগঞ্জ), শাফিউর (ঢাকা জেলা), মোল্লা নজরুল, শাহ আবিদ (ময়মনসিংহ), টুটুল চক্রবর্তী, মাসুদুর রহমান, আলমগীর কবির, নূরুল ইসলাম (কুমিল্লা), আনিসুর রহমান (স্ত্রী আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি), হারুন (প্রাক্তন গাজীপুর এবং স্ত্রীর ১৫৩২ কোটি টাকা আমেরিকায় আটক বলে জনশ্রূত), আলতাফ হোসেন, ২১ ব্যাচের বিপ্লব (ডিসি তেজগাঁও), মারুফ, সাজ্জাদ, বিজয় বসাক, পঙ্কজ রায়, আনোয়ার এবং ২২ ব্যাচের এসপি মেহেদী, জাহাঙ্গীর, সায়েম, মান্নান প্রমূখ ঘুরে-ফিরে পুলিশের রিওয়ার্ড পোষ্টিং হিসাবে পরিচিত জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, যশোর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, এসব জেলায় একাধিকবার এবং দীর্ঘমেয়াদে পোষ্টিং পাওয়ায় অন্য অফিসারদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তাই ডিআইজি আনোয়ার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গায়েবী মামলা, হত্যা, গুম, জেল-জুলুম এবং তফসিল ঘোষনা উপলক্ষ্যে নভেম্বরের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত গণ-গ্রেফতারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশে হাবিবের অনুসারী গুটি-কয়েক অফিসার অতি আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসলেও স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত বা কোন সুবিধা না পাওয়া অন্যান্য বহু অফিসার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী হচ্ছে না মর্মে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এসেছে। তাদের ভাষ্য, সুবিধাভোগীদের পাপের ফল আমরা কেন ভোগ করব। তার চেয়ে এখন নিরপেক্ষ থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পালাবদল হলে অন্ততঃ দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।

বস্তুতঃ বহুমুখি দলীয় কোন্দলের জেরে ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে যাচ্ছে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন হাইটেনশনের, তবে সংলাপ সম্ভব!


20 Oct, 2018

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

আন্দোলন ও নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সরকারবিরোধী নবগঠিত বৃহত্তর প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে এ তৎপরতা। ফ্রন্টের নেতারা একদিকে আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে কাজ করছেন, অন্যদিকে নির্বাচনী আসন ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে সার্বিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্যসংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত করা হবে প্রার্থী মনোনয়ন। এসব কর্মতৎপতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে একাধিক টিম। বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো ও নিষ্ক্রিয়দের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একের পর এক জরিপ করা হচ্ছে আসনভিত্তিক। সেই সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্ধেক নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে নিতে চায় বিএনপি।

এদিকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে যখন জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে তখন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে গেছে দুটি শরিক দল। বিষয়টিকে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টে সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে বিএনপি। তবে ২০ দলের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে দল দুটির একাংশ। তার পরও নির্বাচনী আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিএনপি নেতারা। বাস্তবতাসাপেক্ষে প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দিচ্ছে জোটের শীর্ষ দল বিএনপি। যদিও কৌশলগত কারণে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি এখনই প্রকাশ্যে আনতে চায় না বিএনপি।

বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তারই অংশ হিসেবে বহিষ্কারের কারণ, এলাকার জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতার সার্বিক তথ্যসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। সে তালিকার অনেক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ ছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে নেতাদের দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটাতে কাজ করছেন একটি টিম। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করেছে বিএনপি। আলাদা আলাদা সে জরিপের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মার্কিং করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মহাসচিবসহ যাদের আসনে জটিলতা নেই তারা নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন। সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কয়েক দফায় ক্ষমতাসীনদের রোষানলেও পড়েছেন। এদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে প্রার্থিতার সবুজ সংকেত না পেলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নেতারা এলাকায় কাজ করছেন। তারা নানা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাচ্ছেন। ঘরোয়া বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদান দিচ্ছেন। কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, বড় ও গণতান্ত্রিক দল হিসাবে সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বিএনপি।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এ প্লাটফর্মের কর্মতৎপরতা। তারই অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিকাল ৩টায় গুলশানের হোটেল লেকশোরে এ মতবিনিময় করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মতবিনিময় সভায় কূটনীতিকদের সামনে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে এবং দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এই দাবির পক্ষে, তা কূটনীতিকদের জানানো হবে। ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ৭ দফা দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ১১ লক্ষ্য ব্যাখ্যা করা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন তারই একটি রূপমাত্র। এর বাইরেও বামজোটসহ অনেক দল সরকারের বিপক্ষে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে আন্দোলনে সোচ্চার হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের বাইরে পেশাজীবী ও সুশীল সমাজও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ঐক্যের প্রক্রিয়া দিনকে দিন জোরদার হবে। ঐক্যের মাধ্যমে সারা দেশে সরকারবিরোধী জনমত সংগঠিত হবে। সেই জনমতের চাপে সরকার দাবি পূরণে বাধ্য হবে। নেতারা বলছেন, আন্দোলন কেবল রাজপথেই হয় না। রাজপথের বাইরেও আন্দোলন রয়েছে। প্রচলিত ধারার আন্দোলন কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে পথ চলবে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানান, এখন তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুইটি বিষয়- আন্দোলন ও নির্বাচন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ঘোষিত সাত দফা দাবি আদায়ের কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। দফায় দফায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে কর্মকৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে। তারা সবাই, জনসম্পৃক্ত কিন্তু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের পথে হাঁটতে একমত। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ এবং পেশাজীবীসহ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা সে চাপ সৃষ্টি করতে চান। তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে রাজপথের কড়া কর্মসূচি দিতেও দ্বিধা করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের। সেজন্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও করবেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট একটি টিম। সেখানে বিএনপির শক্ত ভোটব্যাংকগুলোতে দলের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নেয়া হবে। অন্যদিকে যেসব আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এবং ভোট ব্যাংক তুলনামূলক দুর্বল সেখানে ২০ দলীয় জোটসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিবেচনা করা হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চলমান আন্দোলন সম্পৃক্ত কোনো পক্ষকেই মনোনয়ন বঞ্চিত বা হতাশ করা হবে না।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন বণ্টন ও মূল্যায়নের ব্যাপারে বিএনপির ওপর চাপ তৈরি করে আসছিল কয়েকটি শরিক দল। এই নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি, অসন্তোষও ছিল। এসব দল তাদের মূল্যায়নে চাইছিলেন দৃৃশ্যমান আশ্বাস। তবে জোটের ঐক্য ধরে রাখা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলনে মনোযোগ ধরে রাখতে তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছিল না বিএনপি। এমনকি নিজ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো সংকেত দেয়নি। এছাড়া ২০ দলীয় জোট বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অন্যান্য দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার ব্যাপারে কিছুটা অস্বস্তি ছিল কয়েকটি শরিক দলের। জাতীয় ঐক্য গড়ার বিষয়টিকে জোটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে কিছু নেতার বক্তব্য সেটা তীব্র করে তুলেছিল। ফলে জোটের অনেক শরিক এই ঐক্য গঠনের সমালোচক ছিলেন। তাদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছিল- আগামী নির্বাচনে তাদের থেকে এই ঐক্যকেই বেশি প্রাধান্য দেবে বিএনপি। এ নিয়ে দুয়েকটি শরিক দলের সন্দেহ আর অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন মহল ও বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। যার ফলে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপির একাংশ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয়। বিএনপি শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সিনিয়র নেতারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বলেন, ২০ দলের কয়েকটি শরিক দলের ওপর ক্ষমতাসীনদের তরফে চাপ ও টোপ রয়েছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করেন অন্য কোনো শরিক দল চাপের মাধ্যমে নতি স্বীকার ও লোভের কাছে পরাজিত হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য থেকে খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি নিজেই শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করছেন। বিএনপি নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিন নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রমের বাসায় যান। এসময়ে তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিএনপির অবস্থান, অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। সার্বিক বিষয়ে তার পরামর্শও নেন। এছাড়া বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের জন্মদিনে তার বাসায় যান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। একইভাবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি নেতারা জানান, শরিক দলগুলোর আস্থা রক্ষায় নেতারা তাদের বাসায় যাচ্ছেন, আলাদা করে আলোচনা করছেন।

এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাভাবনা থাকে নানা ধরনের। তবে যে দলগুলো গত ১০ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, তাদের মধ্যে হঠাৎই কেউ বেরিয়ে গেলে দেখতে খারাপ দেখায়। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জোটে কোনো ভাঙন নেই। দুটি দলের কিছু নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দলের বড় অংশটি এখনো জোটেই আছেন। জোটের ঐক্য অটুট রয়েছে। অন্য কোনো দলের জোট ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি না। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০ দলীয় জোট ভাঙছে না। এখানে দু-একজন নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দল থাকছে। তারা ইতিমধ্যে দলত্যাগীদের বহিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, কিছু মানুষের বৈষয়িক লাভও থাকতে পারে। সব জায়গায় এই রকম কিছু মানুষ ঘাপটি মেরে থাকে। কিছু মানুষ বৈষয়িক প্রশ্নে অনেক সময় আপস করে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও এমনটি হয়েছে। এই আপসকামিতা আসলে স্বার্থের কাছে আত্মা বিক্রির নামান্তর। বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ২০ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট ও শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বাধীন এনপিপি। ক্ষমতাসীনদের কোনো ধরনের মূল্যায়ন পাননি নীলু। ইতিমধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী এখন রাজনীতিতে হতাশ এবং নিষ্ক্রিয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া এনডিপি ও বাংলাদেশ ন্যাপের একাংশও রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারবে না, হতাশ হবে।

/মানবজমিন

রাজপথেই ফয়সালা হবে সবকিছূ

মাসুদা ভাট্টি: নামে মুসলিম আসলে হিন্দু, পুরুষ থেকে রূপান্তরিত এক বিকৃত রুচির নারী!!

আহমেদ সাইমুম
হালের গোয়েবলস সাংবাদিক(!!) মাসুদা ভাট্টির যাপিত জীবন ও তার কর্মাচার নিয়ে কথা বলা বা আলোচনা সমালোচনা করার মত নূন্যতম ইচ্ছে আর রুচিবোধ কোনটাই নেই আমার। এসবে আমার খুবই ঘেন্না লাগে। এটা আমার জন্যে ভীষণ রকম বেমানানও বটে। আর এ শ্রেণীভূক্ত কারো জীবনাচার নিয়ে কথা বলাটাতো সাংঘাতিক রকম অপছন্দ আমার। তবে উনি যখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হরণকারী দু:শাসনের দস্যু দানবদের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরেই ওনার মেধা মনন শ্রম ঘাম ঝরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বাধিকারকে দু’পায়ে মাড়িয়ে তাড়িয়ে একপেশে গোয়েলবসীয় গোয়ার্তুমি চালিয়েই যাচ্ছেন ঠিক এমনি এক সময়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে অযাচিত প্রশ্নে বিব্রত করে দেশজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়ে বিরাটাকৃতির সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেছেন ঠিক তখনই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জ্ঞাতার্থে যৎ সামান্য তথ্যাদি উপস্থাপন নাদান নাগরিকের জন্য কর্তব্য হয়ে পড়েছে।
#ভাট্টি সম্পর্কে সাধারণের যেটুকু জানাশোনা আছে তার কয়েক রত্তি সত্য হলো:
#ভাট্টি নানা স্থানে ঘুরা ফেরা করেছে। পাকিস্তানেও ছিলো। নিজের শারীরিক ও মানসিক চরিত্র নানা সময়ে পরিবর্তন করেছে। শারীরিক চরিত্র বলতে সে তার লিংগ পরিবর্তন করেছে। (বায়োলজিক্যালি) লিঙ্গান্তরের মাধ্যমে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর হওয়া সম্প্রদায়ের একজন!
#ভাট্টি সিঁথিতে সিঁদুর আর কপালে বিশেষ সম্প্রদায়ের চিহ্ন টিপ পরেন!
#ভাট্টি বৈবাহিক সূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক!
#ভাট্টি লন্ডনে গিয়ে এক পাকিস্তানিকে বিয়ে করে তার সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে দেয়!
#ভাট্টি লন্ডনে থাকাকালে পূর্বের স্বামীকে ত্যাগ করে বহুগামীতায় মেতে ওঠেন! সে পলিগ্যামিষ্ট ও হেট্রো সেক্সুয়াল। সে নারী ও পুরুষ উভয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পছন্দ করে। তবে এগুলো তার ব্যক্তিগত বিষয়।
#ভাট্টির নামটিও মেইড বাই পাকিস্তান!
#ভাট্টি বাংলাদেশ বিরোধী জঘন্য মিডিয়ার লেখক!
#ভাট্টি ভারত ও ইসরাইলের পেইড এজেন্ট সাংবাদিক সম্প্রদায়ের অন্যতম একজন!
#ভাট্টি যখন সাম্প্রদায়িক আওয়ামী রাজনীতিরর জংগী কর্মী হিসাবে একের পর এক বুদ্ধিবৃত্তিক কু প্রবণতা তৈরি করে বাংলাদেশকে রক্তের হলি খেলার দিকে নিয়ে যায় তখন অবশ্যই সবাইকে ভাবতে হবে। সে রাশিয়ান ব্লকের ছেলে এবং আওয়ামীলীগ এর প্রোপাগান্ডা টিমের সদস্য। রাশিয়ায় কমিউনিজম এর পতনের সময় ভাট্টি ইয়লতসিনের পক্ষে কথা বার্তা বলতো। আওয়ামীলীগ, রাশিয়া ও ভারতের প্রডাক্ট এমন একজন মহান ব্যক্তিকে কিভাবে চরিত্রহীন বলে। এই ভাট্টিরা গনতন্ত্র এর বিপক্ষে সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বাহিনী স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন।
#ভাট্টি বেশ দিন লন্ডনে বসে শোষক প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের হয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার ও শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানো কুশীলবদের অন্যতম বাইজী!
#ভাট্টি “লন্ডনে থাকা অবস্থায় দেশ বিরোধী কথিত বুদ্ধিজীবী আগাচৌ’র রাখায়েল ছিলেন!
যার কারনে আগাচৌ’র পরিবারে যথেষ্ট অশান্তিও নেমে এসেছিল!’
#তসলিমা নাসরিন ভাট্টি চরিত্রগত দিক নিয়ে তার এক বইয়ে আলোচনা করেছেন বিস্তারিত।#ব্যারিস্টার মঈনুল ভাট্টিকে ভদ্র ভাষায় চরিত্রহীন বলেছেন টিভি টকশো’তে আর তসলিমা নাসরিন ভাট্টির অসতী চরিত্রের পোস্টমর্টেম তুলে ধরেছেন- প্রমাণ দিয়েছেন তার লেখা বইয়ে।
#বুড়ো শালিক আগাচৌ ভাট্টির ফুলেল চরিত্র নিয়ে কথা নাবলে থুতনী ডুবিয়ে মধু নিয়েছেন!
সর্বোপরি ম ভাট্টি গং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে তিরষ্কার নাকরে ধন্যবাদ দিতে পারেন বা দেয়া উচিৎ এজন্যে যে,তিনি তার নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধের কারণে ভাট্টির নগ্ন রূপের মুখোশ জাতির সামনে উম্মোচন করে দেননি!!
#একটা মানুষ পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয় কি পরিমাণ বিকারগ্রস্ত হলে তা ভাবতেই যে কারো আসবে বমি-আর ঘৃণায় অরুচিতে বিকল হয়ে যাবে মগজ!!

/ফেসবুক থেকে

বেনজিরের লাম্পট্যের উপাখ্যান-২

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বর্তমান সরকারের দশকপুর্তি কালে ক্ষমতাসীনদের যেমন হিসাব নিকাশ চলছে, তেমনি বিভিন্ন বাহিনীতে চলছে পালা বদলের প্রস্তুতি। বিশেষত দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দশ বছরের পাঁজি খুলে বসেছেন। এক দশক ধরে কতিপয় কর্মকর্তার মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে পুলিশের মত একটি ঐতিহ্যবাহী বাহিনীকে জনগনের কাছে একটি ক্রিমিনাল বাহিনীতে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার পরে রক্ষীবাহিনী যে কুখ্যাতি হিসাবে পরিচিতি পায়, সেদশা হয়েছে আজ পুলিশ র্যা বের। তাই অফিসাররা হিসাবপত্র নিয়ে হিসাবে বসেছেন। ক্ষমতা অপব্যবহারকারী, গুম খুনে জড়িত, আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমেজ্জিত, পুরোপুরি দলীয়করন হওয়া অফিসারদের আমলনামা জনগনের সামনে তুলে ধরে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে সরকার বদল হলে পুলিশ বাহিনীকে পতনদশা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বেনজির আহমেদ, যিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক পদে কর্মরত! আজ ২য় পর্ব-

পুলিশের সুত্র জানায়, গুম খুন ও বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড, সাজানো জঙ্গি অপারেশনে ওস্তাদ, দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত বেনজির আহমেদ নারী কেলেঙ্কারীতে সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। বেশ ক`জন রক্ষিতা আছে তার। এ তালিকায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার নায়িকা, র‍্যাম্প মডেল এমনকি সুন্দরী ভাবীরাও আছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালে বেনজিরের চোখ পড়ে তার দু’ব্যাচ জুনিয়র এডিশনাল এসপি আনোয়ার কামালের সুন্দরী স্ত্রীর দিকে। এক পর্যায়ে তাকে কব্জা করে ভোগ করতে থাকেন বেনজির। প্রায়শই এডিশনাল এসপি আনোয়ারকে কাজে দূর্গম এরাকায় পাঠিয়ে দিয়ে তার স্ত্রীর সাথে মৌজমাস্তি করে বেড়াত এসপি বেনজির। ওই অবস্খায় একবার ধরা পরে, তখন এডিশনাল এসপি আনোয়ার রিভলভার নিয়ে বেনজিরকে মারতে উদ্যত হয়। বেনজির দৌড়ে প্রাণ বাঁচায়। এ ঘটনা পুলিশ বাহিনীতে ছি ছি করে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা বেনজির কায়দা করে এডিশনাল এসপি আনোয়ারের চাকরিজীবন দুর্বিসহ করে তোলে। তার পদোন্নতি আটকে দেয়া হয়, নানাবিধ উপায়ে বিভাগীয় মামলার ফাঁদে ফেলে। যেখানে আনোয়ার কামালের এতদিনে সিনিয়র ডিআইজি থাকার কথা, অথচ বেনজির সেটা সিস্টেম করে গতবছর পর্যন্ত তাকে এসপি র্যাং কে আটকে রাখে, শেষে গতবছর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়।

ডিএমপিতে থাকাকালে নিজ কন্যার বয়সী এক নবীন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাগিয়ে ফেলেন বেনজির। ৩০তম বিসিএস ব্যাচের পুলিশ অফিসার লাস্যময়ী সোনালী সেনের সাথে বেনজিরের এডাল্ট রিলেশন্স ছিল ওপেন সিক্রেট। এর বিনিময়ে সোনালীকে প্রাইভেট টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার সুযোগ তৈরি করে দেন। পরে এ নিয়ে বেনজিরের স্ত্রীর চিৎকার চেচামেচি ও উপর্যুপরি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোনালী সেনকে খুলনা মেট্রপলিটান পুলিশে বদলী করে আইজিপি। খুলনাতে পাঠানোর পরও বেনজিরের প্রেম কমেনি। এরি মাঝে বেনজির সুন্দরবন বেড়াতে যায়। সুন্দরবন যাবার সময় খুলনা থেকে সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনালীকে সাথে নিয়ে যায়। তিন দিন তিন রাত একসাথে থাকে বেনজির ও সোনালী। এই সুন্দরবন অভিসার নিয়ে পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে তোলপাড় ওঠে- লিফলেট বের হয় অফিসারদের মাঝে। অন্যদিকে সুন্দরবনের কাহিনীর পরে সোনালীর পরিবারে মারাত্মক গোলমাল লাগে। সোনালীর স্বামী খুলনা শিশু হাসপাতালেল ডাক্তার। একপর্যায়ে ডিভোর্স দিতে চেষ্টা করেন, কিন্তু বেনজিরের হুমকিতে আর আগাতে পারেনি। শেষে সোনালীর স্বামী ড্রাগ ধরে, বর্তমানে সে ড্রাগ এডিক্ট।

১৯৯২ সনে বেনজির ডিএমপিতে এসি(ফোর্স) থাকাকালে ফোর্সের অবিলিকৃত সাত লক্ষ টাকা মেরে দেন। এতে বিভাগীয় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। তার শ্বশুর ৭৩ ব্যাচের জহুরুল ইসলাম, স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসএস এ এন হোসেনের কাছে বার বার ধর্না দিয়ে শেষে টাকা ফেরত দেন। তবে বেনজিরকে গুরুদন্ড দেয়া হয়, কয়েক বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত থাকে। বিএনপির গত আমলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব বেনজিরকে এআইজি (ট্রেনিং) মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। সেখানে বেনজির ক্ষমতার অপব্যবহার ও উৎকোচের বিনিময়ে বিদেশ ট্রেনিংয়ের নাম ঢোকাতেন। একদা চাইনিজ এক ডেলিগেশন পুলিশ সদরে গেলে আইজি শহুদুল হককে পাশ কাটিয়ে তাদের সাথে আলাদাভাবে কথা বলেন বেনজির। এরপর আইজি বা মিনিষ্ট্রিকে না জানিয়ে গোপনে সে সরাসরি পত্র দেয় চাইনিজ এম্বেসিতে। চাইনিজ সরকার বাংলাদেশী পুলিশ অফিসারদের জন্য ট্রেনিং অফার করে পরে ট্রেইনিদের নাম চেয়ে পত্র দেয়। সেই চিঠি পেয়ে আইজি মন্ত্রী তো অবাক! মন্ত্রনালয়কে না জানিয়ে এম্বেসিতে সরাসরি চিঠি দেয়ার দায়ে আবার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও সারদায় বদলী হয়। আবার গুরুদন্ড- দুই বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত। এর আগে নারায়নগঞ্জে এএসপি সার্কেল থাকাকালে ঘুষ ও অনিয়মের অপরাধে প্রসিডিং এবং গুরুদন্ড দেয়া হয়।

পরনারীতে আসক্ত দুর্নীতি লব্ধ অর্থ ব্যয় করে বেনজির নিজের মেয়েদের নিরাপদে রাখতে খুব চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেড় মেয়ে রিশতাকে পাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সটিতে। নিউ ইয়র্ক শহরের লং আইল্যান্ড সিটিতে ৬ মিলিয়ন ডলারে বাড়ি কিনে মেয়েকে রেখেছেন। হাই-ফাই ফেরারি গাড়ি চালিয়ে উদ্যাম জীবন যাপন করে রিশতা। (গাড়ি বাড়ির নম্বর ঠিকানা সংরক্ষিত আছে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

খুন গুমের শিরোমনি বেনজির শেষ সময়ে আতংকে: বিএনপিকে সাহায্যের বিনিময়ে বাঁচতে চাইছেন!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বিএনপির এক শীর্ষ নেতার লন্ডনে ব্যবসায়িক পার্টনার তিনি। জ্বি হ্যা, তার নাম বেনজির আহমেদ, র্যা বের মহাপরিচালক। অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার এই ৮৫ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাটি পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ক্রিমিনাল এবং ক্রুয়েলিটির জন্য কুখ্যাত হয়ে থাকবেন। সম্প্রতি তাকে পেয়ে বসেছে গণধোলাইয়ের আতঙ্কে! গতমাসে তিনি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে ঘুরেছেন মাসখানেক- বিনিয়োগকারী কোটায় ইমিগ্রান্ট হওয়ার আয়োজন করে এসেছেন। তার ক্যাশ ডলারের স্যুটকেস নিয়ে সঙ্গীরা তার পিছে পিছে ঘুরছে- কোথায় ইনভেস্ট করা যায়। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের বাঙালি কমিউনিটিতে বিষয়টি এখন চাউড়।

কিন্তু এত শক্তিমান পুলিশ অফিসার বেনজিরের কেন এই মৃত্যুভীতি? এটা কে না জানে যে, বেনজির আহমেদ ডিএমপি কমিশনার ও ডিজি র্যা ব থাকাকালে হাজার হাজার মানুষ, বিশেষত বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা গুম খুনের শিকার হয়েছে, তারই নির্দেশে। আগামী ডিসেম্বরের পরে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারি সরকারের অবসান হলে বেনজিরদের উপর যে প্রতিশোধ নেয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছেই। তখন যে কারও জান টিকবে না, তা সকলেই অবহিত। তাই বিদেশে সেকেন্ড হোম, থার্ড হোম করে রেখেছেন সর্বকালের ধনী এইসব পুলিশ অফিসারা। লুটপাটের হাজার হাজার কোটি টাকার সিংহভাগ আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ার মত দেশে সরিয়ে ফেলেছেন। বেনজিরের সহকর্মীরা জানান, তার সম্পদের পরিমান অন্তত দশ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে। নিকটস্থদের কাছে বলেছেন, জীবনই যদি না টিকে, তবে এইসব টাকার পাহাড় দিয়ে কি হবে? টাকাপয়সা সরানো হয়েছে, গন্ডগোল লাগলে নিজের জানটাকে নিয়ে সরে পড়বেন, এটা সহকর্মীদের বয়ান!

২০১০ সালের অক্টোবের বেনজির নিয়োগ পান ঢাকার পুলিশ কমিশনার পদে, পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে র্যা বের ডিজি পদে। এই আট বছরে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ সংখ্যক লাশ উপহার দিয়েছেন তিনি। বলা হয় ঢাকার কোতায়াল বেনজির। গোপালগঞ্জের অধিবাসী হওয়াতে তার একটু বেশি বেশি বাড়াবাড়ি- শেখ হাসিনাকে ‘আপা’ বলে ডাকেন তিনি। আপার নির্দেশ ছাড়া তিনি কাউকেই শুনতে চাননা। কিসের আইজি, আর কিসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? সম্ভবত পুলিশ অফিসারদের মধ্যে সবচেয়ে পাওয়ার খাটানো অফিসার হলেন বেনজির। এরিয়ার বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় শিরোমনি তিনি!

ছাত্র জীবনে ইসলামী সংগঠনের সাথে ওঠা বসার কথাও শোনা গেলেও বিরোধী মতকে ডাণ্ডা ও গুলিবন্দুক দিয়ে নিমর্মভাবে দমন, গুম, খুন, অপহরণের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ববান বেনজির সবকিছু ছপিয়ে ফেলেছেন, এমনকি বিএনপির আমলে এসএসএফে কাজ করার রেকর্ডও। এসএসএফ বাহিনীতে নিয়োগদানের অন্যতম শর্ত হলো বিশ্বস্ততা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ। অন্তত বিএনপি তো তা নিশ্চিত হয়েই তাকে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সিকিউরিটি অফিসার বানয়েছিল!

ডিএমপি কমিশনার থাকাকালে ২০১৩ সালে শাপলা চত্তরে রাতের আঁধারে হেফাজতের আলেম হাফেজ গণহত্যার মূল কমান্ডার ছিলেন বেনজির। তার অধীনেই সবগুলি বাহিনী ঐ হত্যাকান্ড চালায়। তারই নির্দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে চেয়ারপারসনের রুমের দরজা কুড়াল দিয়ে ভেঙ্গে শতাধিক নেতাকে আটক করে নিয়ে যায় এডিসি মেহেদী! সরাসরি গুলি করে রাজনৈতিক সমাবেশ পন্ড করার হুকুমদাতা ছিলেন ডিএমপি কমিশনার বেনজির। ‘শিবির দেখামাত্রই গুলি’- বক্তব্য দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বেনজির শেখ হাসিনার নজর কাড়েন। ২০১৪ সালে বিশেষ এসাইনমেন্ট নিয়ে র্যা বের ডিজি হয়ে বেনজির তা প্রকাশ করেছিলেন রংপুরে। সুধী সমাবেশে তিনি হুংকার দিয়েছিলেন, “২০১৩ সালের মতো একটি গোষ্ঠী তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠিস্বার্থ উদ্ধারে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করেছে। তারা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। দেয়ার আর অল টেরোরিস্ট।’ বেনজির তার ভাষায় ঐ ‘টেরটিস্টদের’ পরপারে পাঠিয়ে হাসিনার গদি নিরাপদ করেছেন!

র্যা বের দায়িত্বে থেকে বেনজির ঢাকা শহর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক জঙ্গি অভিযান চালিয়েছেন, যার বেশীরভাগই ছিল সাজানো। এক্ষেত্রে তার অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছে ৮ ব্যাচ জুনিয়র তারই এলাকার অধিবাসী ডিআইজি মনিরুল। কাউন্টার টেররিজম সেলের মনিরুলের টিম এবং র্যা বের বিভিন্ন ইউনিট রাজধানী ও বিভিন্ন স্থান থেকে যুবকদের ধরপাকড় করে কিছু কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। বাকীদের গতি হয় জঙ্গি উৎপাদন কেন্দ্রে। এদেরকে অস্ত্র সম্পর্কে কিছু বেসিক জ্ঞান দিয়ে, চুল দাড়ি না কেটে ‘ইসলামী জঙ্গি’ লেবাস বানিয়ে তাদের দ্বারা অডিও ভিডিও করে ফেইক জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে স্টক শতাধিক হয়ে গেলেই একটি অভিযান করার রেওয়াজ হয়ে যায় ২০৫-১৬ সালে। এরূপ অভিযানই হয় গুলশানে, উত্তরা, আজিমপুর, কল্যাণপুর, ফতুল্লা, এমনকি কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে। বেনজিরের পরিচালিত র্যা ব কতৃক অপহরণ, খুন খারাবি, ক্রস ফায়ার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেক সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। সুইডিস রেডিও র্যা বের ক্রসফায়ারের নাড়ি নক্ষত্র ফাঁস করে দেয়ার পরে ঐ প্রতিবেদনে তথ্য প্রদানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যা বের নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল একে আজাদকে সিলেটের আতিয়া মহলে খুব কৌশলে খরচ করে দেয়া হয় বেনজিরের সিদ্ধান্তে! এনিয়ে সেনাবাহিনীর সাথে তার গোলমাল আছে। ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে বেনজির সেনাবাহিনীর টার্গেট হতে পারেন।

প্লেবয় চেহারার বেনজির আহমেদ নারী কেলেঙ্কারীতে বেশ নাম কামিয়েছেন বাহিনীতে। ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন টিভিতে শো-তে উপস্থিত হয়েছেন বহুবার। ঘরে সুন্দরী স্ত্রী ও তিন সাবালক কন্যা থাকলেও নাটক-সিনেমা জগতের সুন্দরী শিল্পী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী, প্রতিকারপ্রার্থী, এমনকি একাধিক ছাত্রদল নেত্রীকেও শয্যসঙ্গী করেছেন বেনজির। এর আগে ইডেন কলেজের শারমিন নামের এক মেয়েকে অন্তসত্তা করে নিজের ড্রাইভার দিয়ে রাজধানীর একটি ক্লিনিকে এবরশন করায় বেনজির। শারমিনের ভাই দুলালকে চাকরী দেবে এমন শর্তে দিনের পর দিন শারমিনকে ব্যবহার করে বেনজির। কিন্তু পরে চাকরী আর দেয়া হয় না দুলালকে। পুলিশের সুত্র জানায়, বেনজির আহমেদ প্রতিদিনই নতুন মেয়ের অপেক্ষায় থাকে। তাকে যে যতো মেয়ে সাপ্লাই করবে সে স্যারের কাছে ততবেশি প্রিয়। অশ্লিল সিনেমার নাম্বার ওয়ান পরিচালক রাজু চৌধুরীর হাত ধরে বেনজিরের সাথে পরিচয় হয় চিত্রনায়িকা কেয়ার। এরপর নিয়মিত কেয়ার সাথে বিশেষ একটি ফ্লাটে মিলিত হতেন বেনজির। কেয়াকে দীর্ঘকাল রক্ষিতা বানিয়ে রাখে বেনজির। কিন্তু পরিবারে অভাবের কারনে কেয়া যখন এই শৃংখল থেকে বেরুতে চায়, তখন বেনজির কেয়াকে হুমকি দেয়। পরে কেয়া লুকিয়ে লুকিয়ে মিডিয়ার ব্যক্তিদের সাথে নতুন করে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে। এই খবর বেনজিরের কানে এলে বেনজির কেয়াকে মারধর করে। পরে কেয়াকে গুলশানের একটি বাসায় কলগার্ল সাজিয়ে আটক করে পুলিশ। কেয়ার এই খবরটি পরে পুলিশ সদর দফতর মিডিয়ার মাধ্যমে বেশ চাউর করে। ঘটনার সত্যতা জানতে কেয়ার ফ্লাটে গেলে কেয়ার মা প্রথমে ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। পরে তাকে অভয় দিলে তিনি নাম পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমার মেয়েকে অভিনয় থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে এনে দিনের পর দিন নষ্ট করেছে এই ভদ্রবেশি পুলিশ কর্মকর্তা। তার কথা না শোনার অপরাধে কেয়াকে অনেক মারধর করেছে। পরে পুলিশ দিয়ে পতিতা বানিয়ে অ্যারেস্ট করে ওর জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে এই বিচার ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহই বেনজির পাষন্ডের বিচার করবেন।

পরে বেনজির মত্ত হন ছোট পর্দা ও রূপালী পর্দার আরেক সেনসেশন বিদ্যা সিনহা মীমের সাথে। মীমের গুলশানের বাসায় প্রায় প্রতিদিনই একবার আসা যাওয়া আছে বেনজিরের। বিনিময়ে মিমের অনেক কাজ করে দেন বেনজির। মীম ও বেনজিরের এই ঘটনা জেনে ফেলায় তোফায়েলের আপন ভাগ্নে ভোলার নতুন পৌর মেয়র মনিরুজ্জামানের সাথে হাতাহাতি হয় বেনজিরের। ভোলায় জন্ম নেয়া মীম লাক্স সুপার স্টার হয়ে পাড়ি জমান রাজধানীর কল্যাণপুরে মামার বাড়িতে। পরে মীমকে গুলশানে একটি বিলাসবহুল ফ্লাট গিফ্ট করেন ভোলার মেয়র মনিরুজ্জামান। এর বিনিময়ে মনির প্রতিসপ্তাহে মীমের বাসায় সময় কাটাতেন। কিন্তু বেনজির যখন মীমের কাছে আসা যাওয়া শুরু করে তখন মনির বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। মনির এক রাতে মীমের বাসায় অবস্থানকালে সেই রাতে হুট করে বেনজির চলে আসে মীমের বাসায়। এনিয়ে বেনজির ও মীমের মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে ঝগড়া গড়ায় মনির ও বেনজিরের মধ্যে। বেনজিরের গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় মনির। বেনজির মনিরকে গেপ্তার করতে পুলিশ ডাকলে মনির বিষয়টি তার মামা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদকে জানায়। বেনজিরকে ফোন করে তোফায়েল আহমদ। বেনজিরকে শাসিয়ে কথা বললে বেনজির ক্ষিপ্ত হয়ে তোফায়েলকে বলেন, আমি হাসিনা ছাড়া কাউকে চিনি না। পরে পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত আইজি শহিদুল হকের সমঝোতায় ঐ দিনের জন্য বিষয়টি মিমাংসায় গড়ায়। এরপর তানিয়া আহমেদের ছবির শ্যুটিয়ের জন্য মীম লন্ডন চলে যায়, আর মনের কষ্টে মনিরও সস্ত্রীক ব্যাংকক চলে যায়।
পুলিশের কয়েকটি সুত্র জানায়, বেনজির আহমেদের রক্ষিতা আছে বেশ ক`জন। তাদের তালিকায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়ে, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার নায়িকা, র্যা ম্প মডেল এমনকি সুন্দরী ভাবীরাও আছে। বেনজিরের নারী ঘটিত বিষয়টি জানেন তার স্ত্রীও। একারনে তার স্ত্রী ঝগড়া করে একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলেও গিয়েছিলেন। পরে সন্তানদের কথা চিন্তা করে আবার ফিরেও আসেন। বেনজির পুরো পরিবার নিয়ে পুর্তগাল সফরে গেলে সেখানে তার স্ত্রীর সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তার স্ত্রীর একটি সুত্র জানায়, একটি বীচে বেনজিরকে অচেনা একটি মেয়ের সাথে চুম্বন অবস্থায় দেখে ফেলে তার স্ত্রী। পরে বেনজিরকে তার স্ত্রী থাপ্পর পর্যন্ত মারে। বেনজিরের বড় মেয়েকে নিয়ে হোটেল রুম থেকে বেরিয়ে আসে তার স্ত্রী। বিষয়টি বাঙ্গালি কম্যুনিটিতে গড়ায়।

বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে শেখ হাসিনাকে ব্লাকমেইল করে বেনজির চেষ্টা করেন আইজিপির পদ দখল করতে। জাতিসংঘে যাওয়ার আগে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে বেনজির প্রস্তাব দেন- পাটোয়ারীকে সরিয়ে তিনি আইজিপি করতে, আসাদুজ্জামানকে এডিশনাল আইজিপি প্রশাসন, মনিরুলকে ডিএমপি কমিশনার বা র্যা বের ডিজি করতে। সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে নির্বাচনে উঠিয়ে দেয়ার রিস্ক নিতে চাইছিলেন বেনজির। কিন্তু গোপালী টিমের এই উচ্চাভিলাশী পরিকল্পনা আস্থায় নিতে পারেননি শেখ হাসিনা। তার জানা আছে, পুলিশের ভেতরে প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ অবস্থার কথা, আগামীতে ম্যাসাকার হওয়ার আশংকার ভেতরে আর বিপদ বাড়াতে চান না। হতাশ হয়ে ফিরে আসেন বেনজির। এরপরেই ক্ষমতা বদলের পরে নিরাপদ উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি লাইন ধরে হাটা শুরু করেন। তার ব্যবসায়িক পার্টনারের মাধ্যমে এগিয়ে যান বিএনপির আস্থায় আসতে। বিদেশী নম্বরের আলাদা সিমকার্ড ও অ্যাপস ব্যবহার করে বিএনপির হাইকমান্ড ও পুলিশ সমন্বয়কদের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হলে সময়মত বিএনপিকে সহযোগিতা করার বিনিময়ে নিজের অপকর্মের দায়মুক্তি চান অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন বেনজির আহমেদ।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

ঐক্যজোট গঠন থামানোর ব্যর্থতায় ডিজি জিএফআইকে প্রধানমন্ত্রীর ধমক!

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সরকার বিরোধী ঐক্যজোট গঠনের প্রকৃয়া দীর্ঘসূত্রিতায় আটকা পড়ে। বিকল্প ধারাকে দিয়ে নানা শর্তের প্যাচ খেলে ঐক্য গঠন প্রকৃয়াকে থামিয়ে রাখে দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। বিকল্পধারার প্রধান ডা. বি চৌধুরীর পুত্র মাহি বি চৌধুরীকে এক্ষেত্রে বিএনপির বিরুদ্ধে ঘুটি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু গতকাল শনিবার ঐক্য গঠন নিয়ে এক ক্যু করে ফেলে বিএনপি। অবশেষে বি চৌধুরী এবং তার গংকে বাদ দিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, গণফোরাম, জাসদ, এবং নাগরিক ঐক্য সরকার বিরোধী ঐক্যজোট গঠন করে সাংবিাদিক সম্মেলন করে।

ঐক্যজোট গঠনের খবরে সরকারের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে নেন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনকে। শুরু করেন ধমক, “আপনাদের কথায় আমি সায় দিলাম, অথচ আটকাতে পারলেন না ঐক্য! খালেদা জিয়া কি করে হাসপাতাল থেকে ক্যু করে ফেলল? এখন কেমন করে সামলাবেন?” জেনারেল সাইফুল আমতা আমতা করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি টেনশন করবেন না, আমরা দেখছি।”

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

২১ আগস্টে শেখ হাসিনার মঞ্চকে পাশ কাটিয়ে আ.লীগই হামলা করেছে: বিএনপি

২১ আগস্ট বোমা হামলায় আওয়ামী লীগই দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সব কিছু বিচার বিশ্লেষণে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ সৃষ্টি হয় যে, ২১ আগস্ট বোমা হামলায় আওয়ামী লীগ বা তাদের শুভাকাঙ্খীরাই দায়ী। যেহেতু তখন সরকার পরিচালনা করেছে বিএনপি সেহেতু নিজের সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হবে, এমন আত্মবিধ্বংসী কাজ বিএনপি কেন করতে যাবে? আওয়ামী লীগের সভার ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা হলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি হবে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে মানুষের আস্থা কমবে। এতে আওয়ামী লীগের লাভ। ঠিক এই উদ্দেশ্য নিয়েই আওয়ামী লীগের সভার ওপর বোমা হামলা করা হয়েছে, শেখ হাসিনার মঞ্চকে পাশ কাটিয়ে।

তিনি বলেন, এই বোমা হামলার আরেকটি উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন জোট সরকারকে জঙ্গী সরকার বা তার পৃষ্ঠপোষক হিসাবে প্রমাণ করা-সেজন্য পরবর্তিতে শেখ হাসিনা ও তার সহকর্মীরা হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্মিলিত কন্ঠস্বরে দেশে-বিদেশে বিএনপি ও জোট সরকারের বিরুদ্ধে অপবাদের কোরাশ গেয়েছেন। অথচ জঙ্গী উৎপাদন করেছে আওয়ামী লীগ, আর তাদেরকে দমন করেছে বিএনপি।

রিজভী বলেন, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন জোট সরকার এমন হঠকারি কাজ করে নিজেদের পাকা ধানে মই দেয়ার মতো নির্বোধ কাজ করবে, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। সুতরাং এক ঢিলে কয়েকটা পাখি মারার কাজ নেপথ্যে ও প্রকাশ্যে সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের মতো কুটকৌশল ও নিষ্ঠুরতা শিখতে পারেনি।
তিনি বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দপ্তরের পৈশাচিক হত্যাকান্ড আওয়ামী সরকারের আমলেই ঘটেছে। এর জন্য কেন আওয়ামী সরকার দায়ী নয়? দরবার হলের এধরণের অনুষ্ঠানে সবসময় প্রধান অতিথি থাকেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কেন সেদিন যাননি? আওয়ামী মন্ত্রী ও নেতারা যথাক্রমে সাহারা খাতুন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম প্রকাশ্যে সদর দপ্তরে ঢুকে ঘাতক বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে দেন-দরবার করেছেন। সদর দপ্তরের বাহিরে হত্যাকারী ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদসহ তার সঙ্গীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজের সরকারী বাসভবনে বৈঠক করেন। ফাইভ স্টার হোটেল থেকে সেদিন তাদের জন্য খাবারও আনা হয়েছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন দ্রুত বিডিআর সদর দপ্তরে সেনাবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান অবৈধ সরকার সেই নির্দেশ দেয়নি। কেন এই বিলম্ব করা হলো ? আর এই বিলম্ব না হলে প্রাণ দিতে হতো না অর্ধ শতাধিক চৌকস সেনা কর্মকর্তাদের। এরজন্য কি আওয়ামী সরকার দায়ী নয়? একজন উর্দ্ধতন সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে যে তদন্ত হয়েছিল সেটা স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হলেও কেন তা প্রকাশ করা হয়নি? সে আলোকে কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি কেন? এগুলোর জবাব তো একদিন বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনে গোয়েবলসীয় কায়দায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সারাদিন অপপ্রচারে ব্যস্ত থাকলেও সত্যকে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারবে না। অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর মনে নিত্য ত্রাস আর আশঙ্কার মেঘের আনাগোনা। তাই নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় ওবায়দুল কাদের অনবরত মিথ্যা ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। তার বক্তব্যের বৈশিষ্ট্য ক্রোধপরায়ণতা ও কলহপ্রিয়তা। আওয়ামী লীগের গেম প্ল্যান খুব স্পষ্ট। আইন, আদালত, বিচার তাদের হাতে মুঠোয় থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে ফাঁকা ময়দানে ইলেকশনের নামে সিলেকশন করে ক্ষমতা ধরে রাখা।  সেজন্যই ছিনতাইবাজ সরকার গণতন্ত্র ছিনতাই করে ফ্যাসিবাদের বিশুদ্ধ শাসন কায়েম করেছে। এরা গণতন্ত্রের শক্তি শুষে নিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ওপর নজরদারীর শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সহ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, দপ্তর সহ সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
শীর্ষ নিউজ/জে

সকল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে অবশেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ!

দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি, গণ ফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে। তবে এ প্রকৃয়ায় বাদ পড়ে ডা. বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা। আর এ খবরে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় নতুন ঢেউ। কুটনৈতিক পাড়া নড়ে চড়ে বসে, উত্তরপাড়া ও সচিবালয়ে ঐক্য নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যায়।

ঐক্য গঠন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলা বৈঠক, টেবিল টক, সমঝোতা, দাবী নামা তৈরী ইত্যাদি চলতে থাকে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আর হচ্ছিল না। মূলত বিকল্প ধারার নেতা মাহি বি চৌধুরী কতৃক নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে বিএনপির সাথে এই ঐক্য গঠনে বাধা দেয়া হয় এবং সময় ক্ষেপণ চলছিল। বিকল্প ধারা দাবী তোলে, নির্বাচনে বিজয়ী হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, নির্বাচনে বিএনপিকে ১৫০ আসন ছাড়তে হবে, এবং সেই সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পূর্শবর্ত হিসাবে বিএনপির নিজস্ব ২০ দলীয় জোট থেকে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে অন্যান্য দল, বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন, আসম রব, এবং মাহমুদুর রহমান মান্না একটি সহনীয় অবস্থান গ্রহন করেন। কিন্তু বিকল্প ধারা এমনভাবে বাড়াবাড়ি করতে থাকে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা হয় ঐক্য করতে দিবেনা, অথবা দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে ঐক্যের কার্যকারিতা নষ্ট করতে তৎপর। আর এটা যে বর্তমান সরকারের স্বার্থে করছে, তা নানান মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।

গোয়েন্দা সুত্রের খবর মতে, আ’লীগ সরকারের দেয়া ভিওআইপি ব্যবসা থেকে মাহি বি চৌধুরী প্রতি মাসে নগদ পান ৮ কোটি টাকা, তাতে লাভ লোকসান যাই হোক না কেনো। অর্থাৎ বছরে তার ফিক্সড ইনকাম ১০০ কোটি টাকা। খালাত বোন শমীর স্বামী আরাফাতের সাথে ছ’শ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয় টোপ দিয়েছেন, ঐক্যজোট থামিয়ে দেয়ার ইনাম হিসাবে দু’টো টেলিভিশন কেন্দ্রের মালিকানা দেয়া হবে, আরও পাবে নগদ ক্যাশ। গোয়েন্দারা মাহিকে চাপ দেয়, যেকোনো মুল্যে ঐক্য ভাঙতে হবে। তাছাড়া মাহির নারীঘটিত কেলেঙ্কারীর বহু অডিও ভিডিও প্রমানাদি রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। এছাড়াও বিকল্প ধারার সেক্রেটারী মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের তথ্যপ্রমান সরকারের হাতে রয়েছে। হাজার কোটি টাকার ঋনখেলাপী মান্নানকে দুদকে ডাকা হয়েছে। সরকারের কথা না শুনলে তার জেলে যাওয়া, ব্যবসা হারানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এ অবস্থায় গত ১১ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে ঐক্য গঠনের চুড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঐদিনই রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হঠাৎ ঘিরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশ, ঐক্যের অন্যতম সমন্বয়কারী ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর আটক করার চেষ্টা করা হয়। ডা. জাফরউল্লাহকে আটক না করলেও স্থগিত হয়ে যায় কামাল হোসেনের বাসভবনের মিটিং। পরিবর্তে রাতে আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঐক্যজোটের লিয়াঁজো কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, শনিবারে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ঐক্যজোটের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিন কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসভবনে বৈঠকে যোগ দিতে আসেন বি চৌধুরি। এই বৈঠক নিয়ে এসব দলের মধ্যে দিনভর নানা গুঞ্জন চলতে থাকে। ঐক্যের একাধিক নেতা সকাল থেকেই এ বৈঠক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাসভবনে বৈঠকের আগেই ‍ড. কামাল হোসেন চলে যান তার মতিঝিলের অফিসে। এর পেছনে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনের মেসেজ, লন্ডন থেকে আসা ফোন মেসেজ, মান্না এবং ব্যরিষ্টার মাইনুল হোসেনের তৎপরতা ক্রিয়াশীল ছিল বলে সূত্রে প্রকাশ। কামাল হোসেনের চেম্বারে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) নেতারা বৈঠকে বসে ৭ দফা দাবী ও ১১ লক্ষ স্থির করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনু্ষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। অবশেষে এই ঐক্য থেকে বাদ পড়েন বি চৌধুরী এবং তার পুত্র মাহি।

« Older Entries