খালেদা জিয়ার সিলেট সফর: লাখ লাখ মানুষের জনজোয়ার

দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেট সফরে যাওয়ার সময় পুলিশি হয়রানি, গণ-গ্রেফতার ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীসহ লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি তারই বহিপ্রকাশ। এমনটাই দাবি- বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

তারা বলছেন, ঢাকা থেকে আজ সকালে সড়ক পথে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারত করতে রওয়ানা হন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পূর্ব নির্ধারিত এ সফরের খবরে সকাল থেকেই ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। তারা খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এক নজর দেখতে ভিড় করেন। কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তাদের বাধা দেয়, লাঠিচার্জ করে। সেই সাথে চলে গণ-গ্রেফতার।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সারা দিনে দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া, নরসিংদীতে নৌকার স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বাধা দেয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন।
জানা গেছে, এ সব উপেক্ষা করে মহাসড়কের দু’পাশে জনতার ঢল নামে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সিলেট এলাকায় পৌঁছলে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর সমর্থকদের উপছেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় মহাসড়কের দু’পাশে। এ সময় তাদের হাতে খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান ও নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর ছবিসম্বলিত প্লেকার্ড শোভা পায়।

খালেদা জিয়া দুপুরের পর সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখানে দুপুরের খাবারবিরতি ও নামাজ শেষে বিকেলে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে যান। সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে মাজার জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাত করেন তিনি। পরে সেখান থেকে বের হয়ে বেগম জিয়া যান হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজারে। মাজার জিয়ারত শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন ফিরেন সিলেট সার্কিট হাউজে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন সিলেটে পৌঁছার পর পুরো নগরীতে মানুষের ঢল নামে। সিলেট সার্কিট হাউজ থেকে শুরু করে শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর মাজারে দলীয় নেত্রীকে ঘিরে লাখো মানুষ উপস্থিত হন। সেই সাথে দলীয় নেতাকর্মীসহ উপস্থিত জনতা খালেদা জিয়া, তারেক রহামন ও শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যা দেখে আশপাশের মানুষও অবাক হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় দলীয় নেতারা বলছেন, এটা খালেদা জিয়ার কোনো রাজনৈতিক সফর নয়। তিনি মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেটে এসেছেন। আর নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাকে দেখতেই মূলত মানুষের ঢল নেমেছে সিলেটে। জনতার এই ঢল- বিএনপি ও খালেদা জিয়ার প্রতি সিলেটবাসীসহ দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আজ রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউস ছেড়ে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

১৬ আগস্ট ১৯৭৫ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত বিশেষ সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

ঐতিহাসিক নবযাত্রা

দেশ ও জাতির এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন পূরণে গতকাল প্রত্যুষে প্রবীণ জননায়ক খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী সরকারের সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণ করিয়াছেন। পূর্ববতী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হইয়াছেন এবং এক ভাবগম্ভীর অথচ অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করিয়াছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও তাহার নূতন সরকারের প্রতি স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর অধিনায়কগণ তাহাদের স্ব স্ব বাহিনীর পক্ষ হইতে অবিচল আস্থা ও আনুগত্য ঘোষণা করিয়াছেন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহ যথা বাংলাদেশ রাইফেল, পুলিশ এবং রক্ষীবাহিনীর প্রধানগণও নূতন সরকারের প্রতি তাহাদের অকুন্ঠ আনুগত্য জ্ঞাপন করিয়াছেন এবং সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করিয়াছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জীবনে এই পরিরবর্তনের এক বিষাদময় পটভূমি রহিয়াছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও অসংখ্য মা-বোনের পবিত্র ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা একদিন যে স্বাধীনতা অর্জন করিয়াছিলাম সেখানে আমাদের আশা ও স্বপ্ন ছিল অপরিমেয়। কিন্তু বিগত সাড়ে তিন বছরেরও ঊর্ধ্বকালে দেশবাসী বাস্তবক্ষেত্রে যাহা লাভ করিয়াছে তাহাকে এক কথায় গভীর হতাশা ও বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। নয়া রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশ্যে তাহার বেতার ভাষণে এই দুর্ভাগ্যজনক পটভূমির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়াছেন। গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নের পরিবর্তে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করিয়া এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখিবার দুর্নিবার আকাঙ্খায় মাতিয়া উঠিয়া স্বাধীনতার সুফল হইতে জনগণকে নিমর্মভাবে বঞ্চিত করা হইয়াছে। সুজলা সুফলা সোনার বাংলার সোনার মানুষদের চরম হতাশার কবলে ঠেলিয়া দেয়া হইয়াছে। ফলে বাংলার মানুষের নিত্যসঙ্গী হইয়াছে ক্ষুধা, বঞ্চনা, দারিদ্র্য ও অসহনীয় অর্থনৈতিক নির্যাতন। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠুর অবহেলার ফলে একদিকে চরম অর্থনৈতিক বঞ্চনা, অপরদিকে নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদির নজিরবিহীন অগ্নিমূল্যের ফলে সাড়ে সাত কোটি মানুষের জীবনে বিপর্যয় নামিয়া আসে। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভাঙ্গিয়া পড়ার উপক্রম হয়, বিশেষত পাটশিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি আসিয়া দাঁড়ায়। স্থায়ীভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আকাঙ্খায় একটি ক্ষুদ্র কোটারী দেশে একটির পর একটি রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি চালিতে থাকে। ফলে অব্যক্ত বেদনায় গুমড়িয়া মরে সাড়ে সাত কোটি মানুষের অন্তর।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সত্যিকারের আশা-আকাঙ্খা রূপায়ণে খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে যে আগাইয়া আসিতে হইয়াছে তাহারও কারণ ছিল। পূর্ববর্তী শাসকচক্র সাংবিধানিক পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের সমস্ত পথ রুদ্ধ করিয়া রাখিয়া সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপকে অনিবার্য করিয়া তুলিয়াছিল। কিন্তু ইতিহাসের গতিকে কোনদিন ক্ষমতালিপ্সা বাঁধ দিয়া ঠেকাইয়া রাখা যায় না। বাংলাদেশের যে বীর জোয়ানরা দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সাড়ে সাত কোটি মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া একদিন লড়িয়াছে, রক্ত দিয়াছে, তারা দেশের এ ঘোর দুর্দিনে নিশ্চুপ বসিয়া থাকিতে পারে নাই। জাতির প্রতি, দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত জনগণের প্রতি তাহাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করিয়াছে অকুতোভয় সাহস লইয়া। কিন্তু জনগণের প্রতি যে তাহাদের কোন বিদ্বেষ নাই, রহিয়াছে শুধু মমতা, তাহা ফুটিয়া উঠিয়াছে জনগণের সঙ্গে তাহাদের বন্ধুত্বপূর্ন আচরণে।

আজকের এই ঐতিহাসিক মুহুর্তে আমাদের দায়িত্ব অনেক। বাংলাদেশের এক মহাক্রান্তিলগ্নে জননায়ক খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে সশস্ত্রবাহিনী যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে তাহাকে সুসংহত করিতে হইলে জনগণের প্রতি অর্জিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধভাবে আগাইয়া যাইতে হইবে। জাতীয় জীবনের প্রচলিত মহৃল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর যে সুযোগ অতীতে একবার হেলায় হারানো হইয়াছে পরম করুণাময়ের অপার অনুগ্রহে সেই সুবর্ণ সুযোগ আবার আমাদের সামনে সমুপস্থিত। সে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করিতে হইবে আমাদের। সশস্ত্রবাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও আইন রক্ষাকারী সংস্থাসমুহ যেইভাবে একযোগে দেশ গড়ার এই নূতন দায়ত্বে আত্মনিয়োগ করিয়াছেন জনগণকেও একতাবদ্ধ হইয়া অনুরূপভাবে তাহাদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে আগাইয়া আসিতে হইবে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সর্বপ্রকার অনাচারের মূল্যোৎপাটন করিতে হইলে আমাদের অনেক সংগ্রাম সাধনা করিতে হইবে। কিন্তু এ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শান্তি-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখা, আইনের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন, সর্বোপরি দেশ গড়ার এক পবিত্র দায়িত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আত্মনিয়োগ করা। সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ অতীতের ন্যায় এবারও এ মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে পারিবে, এ বিশ্বাস আমাদের আছে।

বিশ্বের বিভিন্ন শান্তি ও কল্যাণকারী দেশসমূহহ, বাংলাদেশের এই পরিবর্তনের যথার্থতা শিগগিরই উপলব্ধি করিবেন বলিয়া আমরা বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ সকলের বন্ধু থাকিতে চায়, কাহারো প্রতি তাহার শত্রুতা নাই। এমনকি যাহাদের সাথে বাংলাদেশের এতদিন বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপিত হয় নাই নয়া সরকার তাহাদেরও বন্ধুত্ব প্রয়াসী। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সমতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা এবং অপরের আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বাসী। ইহুদীবাদ, বর্ণবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও নয়া উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার আপোষহীন থাকিবে। জাতিসংঘের সনদের প্রতি আমাদের আস্থা অটুট। জোট নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মৈত্রী, উপমহাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণ ও বিশ্বশান্তির নীতিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ। ইসলামী সম্মেলন, কমনওয়েলথ ও জোট নিরপেক্ষ ফোরামের সদস্য থাকিয়া বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করিয়া যাইবে।

নবগঠিত সরকার শুধু দেশের অভ্যন্তরেই এক কলুষমুক্ত নয়া সমাজ গড়িতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নয়, বিশ্ব শান্তি নির্মাণেও তাহারা ঐতিহাসিক অবদান রাখিতে প্রয়াসী। বলাবাহুল্য, সাড়ে সাত কোটি মানুষের অনাবিল আশা-আকাঙ্খাই প্রতিধ্বনিত হইয়াছে নয়া সরকারের ঘোষিত নীতির মধ্যে। এ পবিত্র সংকল্প জয়যুক্ত হোক, ইহাই এ মুহুর্তে আমাদের সকলের কামনা।

( সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: আনোয়ার হোসেন)

গ্রেফতার ও পুলিশী নির্যাতনের আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শান্তিপূর্ন কোটা আন্দোলনের নেতারা

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তার বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করার পর বাকি নেতারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। খবর বিবিসি বাংলা’র।
গত সাড়ে চার মাসে এই আন্দোলনের সাথে জড়িত মোট আটজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবশেষ ঘটনায় বুধবার আরো একজন যুগ্ম আহবায়ক লুৎফুন্নাহার লুমাকে আটক করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ থেকে।
নেতাদের একের পর এক এরকম গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় কোটা আন্দোলনের একজন যুগ্ম আহবায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, যিনি নিজের পরিচয় দিতে চান নি, তিনি বলেছেন, “আমাদের ফোন ট্র্যাক করা হচ্ছে। প্রায়শই কল আসে অপরিচিত নম্বর থেকে। আমাদের পরিবারের লোকজনকে বোঝানো হচ্ছে আমরা নাকি রাষ্ট্রদ্রোহি আন্দোলন করছি।” অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবিসি বাংলাকে তিনি টেলিফোনে বলেছেন, গ্রেফতার এড়াতে তাদের বেশিরভাগ নেতা এখন আত্মগোপন করে আছেন।
তারা বলছেন, এর ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি ছাড়াও আরো কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কয়েকবারের চেষ্টার পর কেউ কেউ ফোন ধরলেও পরে তারা বলেছেন, অজানা নম্বর দেখে ভয়ে তারা ফোন ধরেননি।
সর্বশেষ লুৎফুন্নাহার লুমাকে গ্রেফতারের আগে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের সকলেরই জামিন আবেদন বাতিল করেছে আদালত। অনেককে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।
তাদের একেক জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে। কেউ আটক আছেন মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আবার কেউ ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে। বিতর্কিত তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায়।
এছাড়াও গত চার মাসে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কয়েকজন নেতা কর্মীকে আটক করা হয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শুধু মামলা বা গ্রেফতারই নয়, অনেক নেতা কর্মীর ওপর হামলার কারণে তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে।
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে ১৭১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির আহবায়ক ছিলেন হাসান আল মামুন। আর বাকি ১৭০ জনই যুগ্ম আহবায়ক। তাদের সাতজনই এখন কারাগারে আটক রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটা আন্দোলনের এই নেত্রী অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে তার নাপস ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেখানে তার ছবি দিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারও চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “এখন বাড়িতেও যেতে পারছি না। কারণ বাসায় গেলে সেখান থেকে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। হলে থাকতেও ভয় পাচ্ছি। হল থেকেও পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। থানার লোকজনসহ সরকারি দলের স্থানীয় নেতারাও আমাদের পরিবারের উপর নানাভাবে চাপ তৈরি করছে। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছে। ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে তারা লোকজনকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তো আর ডিবির লোকদের চিনি না। সাদা পোশাকে এসে তারা নিজেদেরকে ডিবির লোক বলে পরিচয় দেয়। আসলেই তারা ডিবির লোক কি না নাকি অন্য কেউ সেটাতো আর বুঝতে পারি না। ধরে নিয়ে কি করে কে জানে। ধরলে তো আর ছাড়েও না। তাদের জামিনও হয় না। তাই গৃহবন্দীর মতো অবস্থা।”
নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করতে গেলেও পুলিশ সেসব গ্রহণ করতে রাজি হয় না।
কোটা আন্দোলনের এই যুগ্ম আহবায়ক বলেন, আন্দোলন করার কারণে তার বাবার চাকরিতেও সমস্যা হচ্ছে। “আমার বাবা সরকারি চাকরি করেন। সেখানে বলা হচ্ছে সরকারের খেয়ে, সরকারের পরে আপনার মেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তো আপনার কি আর চাকরিতে থাকা উচিত! আপনার মেয়েকে যদি থামাতে না পারেন, তাহলে কেউ যদি ব্যবস্থা নেয়, বাবা হয়ে আপনি সেটা মেনে নিতে পারবেন কি না সেটা আপনার ব্যাপার। এসব বলে তারা বাবাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করারও হুমকি দিচ্ছে।”
কোটা সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয় ফেব্র“য়ারি মাসে। কিন্তু এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ই এপ্রিল রাতভর সহিংস বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিল বলে ঘোষণা দেন। পরদিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল বের করে।
কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারের ঘটনা। এসব গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতে গেলে সরকার সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে। এবং পুলিশও সেখান থেকে কোটা আন্দোলনের নেতাদের গ্রেফতার করতে থাকে।
পরে বিভিন্ন সময়ে নেতাদেরকে তাদের বাড়ি ও হল থেকেও তুলে নিয়ে গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে কোটা আন্দোলনের নেতারা গত সপ্তাহে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলছেন, ঈদের আগে নেতাদের মুক্তি দেওয়া না হলে তারা জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘিরে গণগ্রেপ্তার চলছে: এইচআরডব্লিও

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘিরে গণগ্রেপ্তার চলছে বলে মন্তব্য করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সরকার ভিন্নমত দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে সংস্থাটি নির্বিচারে গ্রেপ্তার বন্ধ, ভিন্নমত প্রকাশের দায়ে আটককৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। বুধবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
বিবৃতিতে সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ করার জন্য একটি অস্পষ্ট আইনের ব্যবহার করা  হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করে ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষ সরকারের সমালোচনা করার দায়ে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রামদা, লাঠি-সোটা ও রডের পাইপ দিয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকার কোন সমালোচনা সহ্য করছে না।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর চালানো সাম্প্রতিক গণগ্রেপ্তারে আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যা বাক-স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্র্যাড অ্যাডামস আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এটা মেনে নেয়া যে, সমালোচনা হলো ক্রিয়াশীল ও সুষ্ঠু গণতন্ত্রের একটি অংশ। সরকারের উচিত আইসিটি আইনের পরিবর্তে এমন আইনের প্রচলন করা যাতে বাকস্বাধীনতা সমুন্নত থাকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯শে জুলাই দ্রুত গতির একটি বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে। প্রতিবাদী তরুণরা নিরাপদ সড়ক, প্রশাসনের জবাবদিহীতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানায়। পরে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেটের শিকার হন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের ওপর সহিংসতা চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার সময় পুলিশ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। পরে এই সহিংসতার বিষয়ে যে কোন ধরনের সমালোচনা বন্ধ করতে উদ্যোগী হয় প্রশাসন। বিপুলসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থাকেন, শহরের এমন একটি অঞ্চলে অভিযান চালায় ঢাকার পুলিশ। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পুলিশ সব বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা খুঁজতে তারা দ্বারে-দ্বারে গিয়ে মোবাইল ফোন চেক করেছে।
আটককৃতদের একজন  বিখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমকে ৯ দিন ধরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ কাস্টডিতে তাকে মারধর করা হয়েছে। ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর দায়ে গত ৪ই আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের জামিন নামঞ্জুর করে কাস্টডিতে রাখা হয়েছে। প্রায় সব গ্রেপ্তারই করা হয়েছে ৫৭ ধারায় আইসিটি আইনে। এই ধারাটি অশ্লীল, মানহানিকর বা অপবাদমূলক কোন প্রচারণা এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে, রাষ্ট্র বা কোন ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন  করতে পারে বা কারো ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করতে পারে এমন প্রচারণা চালানোর দায়ে যে কোন ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করার অনুমতি দিয়েছে।
এই অস্পষ্ট ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃৃত আইন বছরের পর বছর সমালোচনা দমন করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। পূর্বে বাংলাদেশ সরকার মেনে নিয়েছিল যে, ওই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। বলেছিল, বাক-স্বাধীনতার লাগাম টেনে ধরার কোন ইচ্ছা তাদের নেই। এর পরেও তারা এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের বিবৃতিতে সাইবার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম শামীমের করা মন্তব্য উল্লেখ করেছে। গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ৫৭ ধারার আইসিটি আইন খুবই অস্পষ্টভাবে বর্ণিত একটি আইন, যা বর্তমানে সমালোচনা বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই আইনে দায়ের করা মামলাগুলোর অর্ধেকেরও কম সংখ্যক মামলায় চুড়ান্ত রায় দেয়া হয়। কিছু মামলা পুরোপুরি সাজানো যা মানুষদের হয়রানি করতে দায়ের করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি নব্বইয়ের ডাকসু নেতৃবৃন্দের

গ্রেফতার হওয়া নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃবৃন্দ। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে তারা যৌক্তিক ও অভূতপূর্ব জাগরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বুধবার ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের সই করা এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানিয়েছেন।
এতে সই করেছেন আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ও লুৎফুর রহমান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এ আন্দোলনকে ইতিবাচকভাবে নেননি। বরং চরম আতঙ্ক ও অস্থিরতা থেকে তারা বলপ্রয়োগের নীতিগ্রহণ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, সরকার আন্দোলন দমন করতে পুলিশ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এতে নির্বিচারে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তারা বলেন, যৌক্তিক দাবিকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করার নীতি কেবল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নয় গোটা দেশবাসীর সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা। জোর জবরদস্তি করে কেউ-ই ক্ষমতার মসনদ রক্ষা করতে পারে না, বর্তমান সরকার সেটি ভুলে গেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৯ জুলাই শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একদল শিক্ষার্থীর ওপর উঠে যায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।
এর প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা, সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

ইতিহাসের পাতা খুলবেন, নাকি তাকিয়ে তাকিয়ে কেবল শোক দিবসের নামে ন্যাকামি দেখবেন?

আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এইদিনে সেনাবাহিনীর একাংশের সফল অপারেশনে সপরিবারে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বাকশাল চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান। আসলে মৃত্যুকালে তিনি আওয়ামীলীগের কেউ ছিলেন না। কেননা তার সাত মাস আগেই তিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নামক দলটি!

এই দিনের বদৌলতে আগস্ট মাস এলেই যেমন ‘শোকের মাস শোকের মাস. বলে দেশের মানুষকে জোর করে কাঁদানোর অপচেষ্টা হয়, সাথে সাথে মানুষের বিয়ে সাদী জন্মদিন আনন্দ ফুর্তি সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। একই সাথে রেডিও টেলিভিশন কাঁপানো শুরু করে দেয় একশ্রেণীর বক্তা, যাদের অনেকের ইতিহাস বড়ই বিপরীত রকমের। কিন্তু সাধারন মানুষ ভেবে পায় না কোনটা ঠিক- ৭৫ সালে তাদের অবস্থা, নাকি এখনকার হাল! এমনসব ব্যক্তিবর্গকে এখন গ্লিাসারিন কান্নায় বুক ভাসাতে দেখা যায়, যারা সেইদিনে শেখ মুজিবকে হত্যার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, কেউ আবার ঘটনার পরে সুর্যসন্তানদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগকে দেখা যায়, ঐসব নব্য দরদীদের প্রতি পরিবর্তিত আচরণ। বর্তমান বিনাভোটের সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দু’দিন স্বগোতোক্তি করেন- আওয়ামীলীগের একটি অংশই শেখ মুজিবকে হত্যা করেছিল।

তাহলে ১৫ আগস্ট কি শোকের দিন, নাকি কারও কারও আখের গুছানোর দিন? আসুন কয়েক ব্যক্তির দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক:

হাসানুল হক ইনু:
৭২-৭৫ পিরিয়ডে শেখ মুজিবের দুঃশাসনের সময় হাসানুল হক ইনু ছিলেন জাসদের কিলিং সংগঠন গণবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার, যাদের কাজ ছিল সারা দেশে মানুষ হত্যা করে ত্রাস সৃষ্টি করা। জাসদের মুল লক্ষ্য ছিল পুজিবাদীদের হঠিয়ে অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখল করা। মুজিবের আজীবনের ক্ষমতার স্বপ্ন পূরণের লক্ষে রক্ষী বাহিনী নামিয়ে হত্যা নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী মত দমনে প্রবৃত্ত হলে তাদের প্রতিহত করতে অবসরপ্রাপ্ত লে.কর্নেল তাহের ও ইনুর সমন্বয়ে গড়ে তোলে জাসদের সামরিক শাখা গণবাহিনী। এই গণবাহিনীর কাজ ছিল শেখ মুজিবের লোকদের শ্রেণীশত্রু আখ্যায়িত করে তাদের হত্যা করা। জাসদের সেই গণবাহিনী ইনুর জন্মস্থান কুষ্টিয়া জেলার এখনো এক আতঙ্কের নাম। ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার মন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত ইনু কোনোদিন শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেনি। শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর ইনু ট্যাঙ্কের উপর চড়ে ঢাকা শহরে উল্লাস করে বেড়িয়েছিল, একথা সকলেই জানে। মুজিব হত্যার পরে ইনু একটি বিদেশি মিডিয়াকে ইংরেজিতে সাক্ষাতকার দিয়ে শেখ মুজিবকে একজন খুনী এবং স্বৈরাচার হিসাবে আখ্যা দেন। ১৫ আগস্টে শেখ মুজিবের হত্যার পরে ইনু কর্নেল তাহেরকে নিয়ে যান রেডিওতে, যেখানে খোন্দকার মোশতাকের সাথে সিরিজ বৈঠক করেন। তারা অভ্যুত্থানের প্রতি পূর্ন সমর্থন জানান। সম্প্রতি আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, ইনুরাই দেশজুড়ে হত্যাকান্ড ও তান্ডব চালিয়ে মুজিব হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। অথচ সেই ইনু গত দু’টার্ম ধরে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রী হয়ে ’বঙ্গবন্ধু’ জপতে জপতে মুখে তুবড়ি ছোটান! মন্ত্রী হওয়ার জন্য তার একমাত্র্র যোগ্যতা- প্রতিদিন সকাল বেলা উঠে বিএনপি, শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়াকে গালাগালি করা, আর তাতেই খুশি শেখ হাসিনা!

মতিয়া চৌধুরী:
ইনুর মতই মতিয়া চোউধুরীও ছিল বামপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী, যিনি শেখ মুজিব হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুতকারীদের অন্যতম। মতিয়া শেখ মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর ঘোষণা দিয়ে নাম কামিয়েছিলেন মতিয়া। কালের বিবর্তনে সেই মতিয়া এখন শেখ হাসিনার কৃষি মন্ত্রী এবং ১৫ আগস্ট নিয়ে শোক পালনকারীদের একজন!

কর্নেল তাহের:
জাসদের গণবাহিনীর প্রধান লে. কর্নেল (অব.) তাবু তাহের, যিনি ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের আগে থেকেই এর সাথে জড়িত ছিলেন। শেখ মুজিবকে হত্যার পরে রেডিওতে গিয়ে এবং পরে বঙ্গভবনে থেকে অভ্যুত্থানকারীদেরকে নানা পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, শেখ মুজিবের লাশ দাফন না করে সাগরে ফেলে দিতে। লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, “তাহের আক্ষেপ করে নঈমকে বললেন, ওরা বড় রকমের একটা ভুল করেছে। শেখ মুজিবকে কবর দিতে অ্যালাও করা ঠিক হয়নি। এখন তো সেখানে মাজার হবে। উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া।” এখন মুজিব কন্যা সেই তাহেরকে নবরূপে মান মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করেছেন, কারন তাতে করে জিয়াউর রহমানকে গালিগালাজ করা যাবে, তাই!

আনোয়ার হোসেন:
কর্নেল তাহেরের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ১৯৭৫ সালে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের লেকচারার। অন্যদিকে তিনি ছিলেন জাসদের সামরিক সংগঠন বিপ্লবী গণবাহিনীর ঢাকা নগরের কমান্ডার, যার হাতে নিহত হয়েছে বহু মানুষ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ঠেকাতে এই আনোয়ার হোসেনরা ব্যাপক বোমাবাজি করেছিল। সেই খুনি বোমাবাজ আনোয়ারকে শেখ হাসিনা বানায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এক সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারকে অপসারণ করার দাবী জানিয়ে বলে, ‘বঙ্গবন্ধু সরকারকে উৎখাতের উন্মাদনায় মেতে উঠেছিলেন আনোয়ার। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর অধ্যাপক আনোয়ার ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে খুশিতে নেচেছিলেন।’

খালেদ মোশাররফ:
১৯৭৫ সালে অভ্যুত্থানের সময় ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ছিলেন সেনাবাহিনীর সিজিএস, যিনি ছিলেন আর্মির নাইট প্যারেড তথা ট্যাংক বের করার অনুমতি প্রদানের অথরিটি। কর্নেল ফারুক ছিলেন তারই ভাগিনা। ১৫ আগস্টের আগেও মেজর ফারুক বিভিন্ন সময়ে শেখ মুজিবকে হত্যা করার চেষ্টা করে ধরা পড়লে খালেদ মোশাররফ ভাগ্নেকে বাঁচিয়ে দেন, এর একটি চমৎকার বর্ণনা আছে মেজর নাসিরের বইতে। ১৫ আগস্ট রাতেও খালেদ মোশাররফের অনুমতিতেই ট্যাংক নিয়ে বের হয়েছিলেন ফারুক রশিদ ডালিমরা, এবং পরে ৩২ নম্বরে গিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যা করে। মুজিব হত্যার আড়াই মাস পরে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ক্যু করে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে বঙ্গভবনে অবস্থানরত খোন্দকার মোশতাক, এবং (আওয়ামীলীগের ভাষায়) শেখ মুজিবের খুনিদের সাথে দেনদরবার করে নিজে সেনাপ্রধান হন। আপোষের অংশ হিসাবে মুজিব হতায় জড়িত অভ্যুত্থানকারী সকল সেনাঅফিসারকে নিরাপদে বিশেষ বিমানে করে বিদেশে পাঠিয়ে দেন খালেদ মোশাররফ। অবশ্য খালেদ মোশররফ তিন দিনের বেশী টিকতে পারেননি। সেই খালেদ মোশারফের নামে আ’লীগ এখন শিরনি দেয়!

এইচটি ইমাম:
শেখ মুজিব হত্যার পরে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন হোসেন তৌফিক ইমাম। রাষ্ট্রপতি নিহত হবার পরে তার প্রথম দায়িত্ব ছিল নিহত মুজিবের লাশের দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তিনি তা না করে লাশ সিড়ির নিচে ফেলেই বঙ্গভবনে যান মোশতাক ও তাঁর মন্ত্রিসভার শপথ পাঠ করাতে। সেই এইচটি ইমাম এখন মুজিব কন্যার প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা!

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু:
শেখ মুজিব নিহত হবার পরে ইত্তেফাকের সম্পাদক আনোয়ার হোসে মঞ্জু ‘ঐতিহাসিক নবযাত্রা’ শিরোণামে সম্পাদকীয়তে লিখেছিলেন, “দেশ ও জাতির এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন পূরণে গতকাল প্রত্যুষে প্রবীণ জননায়ক খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী সরকারের সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণ করিয়াছেন। পূর্ববতী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হইয়াছেন এবং এক ভাবগম্ভীর অথচ অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করিয়াছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও তাহার নূতন সরকারের প্রতি স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর অধিনায়কগণ তাহাদের বাহিনীর পক্ষ হইতে অবিচল আস্থা ও আনুগত্য ঘোষণা করিয়াছেন।  …..বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সত্যিকারের আশা-আকাঙ্খা রূপায়নে খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে যে আগাইয়া আসিতে হইয়াছে তাহারও কারণ ছিল পূর্ববর্তী শাসকচক্র সাংবিধানিক পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্পূর্ন পথ রুদ্ধ করিয়া রাখিয়া সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ অনিবার্য করিয়া তুলিয়াছিল। বাংলাদেশের যে বীর জোয়ানরা দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সাড়ে সাত কোটি মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া একদিন লড়িয়াছে, রক্ত দিয়াছে, তারা দেশের এ ঘোর দুর্দিনে নিশ্চুপ বসিয়া থাকিতে পারে নাই। জাতির প্রতি, দেশের প্রতি, দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত জনগণের প্রাতি তাহাদের দায়িত্ব পালন করিয়াছে অকুতোভয় সাহস লইয়া…। সেই আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ঘটনাচক্রে এখন শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, আগেও তাকে করেছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রী।

মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ:
শেখ মুজিবের নিয়োগ করা অতিবিশ্বস্ত সেনা প্রধান মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ গোয়েন্দা মারফত খবর পান শেখ মুজিবের বাড়িতে আক্রমনের খবর। ৩/৪ ঘন্টা সময় পেয়েও তিনি কোনো প্রকারের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। উল্টো ফোনে প্রেসিডেন্ট মুজিবকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। তারপরেই মুজিব বের হয়ে আসেন, এবং নিহত হন। শেখ মুজিব হত্যার পরে পটপরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সফিউল্লাহকে সরতে হয় বটে, তবে মোশতাক সহ পরবর্তী সরকারের আমলে পুরোটা সময় বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকরি করেন তিনি। সেই সফিউল্লাহকে মজিবকন্যা বানিয়েছেন সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান।

এভাবে কেঁচো খুড়তে গেলে সাপ বের হবার ভয়ে হাসিনা ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে চান না। কিন্তু জনগন তো ইতিহাস পড়তে জানে। তারা শেখ হাসিনার পালিত এইসব নব্য স্তাবকদের ভাড়ামি শুনতে প্রস্তুত নয়।

 
 

বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও  ২০ দলীয় জোট প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। দেশনেত্রীর জন্মদিন উদযাপনে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন তার আশু সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে রোজা পালন, দোয়া ও মিলাদ, আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের বাবা এস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদারের কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বাবা এস্কান্দার মজুমদারের আদিনিবাস ফেনী জেলায়। পরবর্তীতে তারা দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন। ১৯৬০ সালেই কলেজপড়ুয়া বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাডেট অফিসার জিয়াউর রহমানের বিবাহ হয়। ১৯৬৫ সালের ২০ নবেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম পুত্র তারেক রহমানের জন্ম হয়। ১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় ও শেষ সন্তান আরাফাত রহমান কোকো জন্ম নেয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানসহ গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সংহতি ও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া এ সময় দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। জিয়াউর রহমান প্রিয় সহধর্মিণী হিসেবে স্বামীর মতোই ইসলামী ও অতি সাধারণ সংযমী জীবনাচার পছন্দ করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে শাহাদত বরণের পর এতিম দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের বাসাতেই সাধারণভাবে জীবন যাপন শুরু করেন।

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেছিলেন। বিগত কিছুকাল যাবত আমি বিএনপির কার্যক্রম গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি। দলের ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হতে পারে, এমন মনে করে আমাকে দলের দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তাই দলের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি ও দলের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছি। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের গড়া দলে ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া আমার লক্ষ্য। রাজপথের নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালের আগস্ট মাসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তার ওপর নানাবিধ হুমকি আসতে থাকে, চক্রান্ত চলতে থাকে তাকে ব্যর্থ করে দেয়ার। কিন্তু অকুতোভয়, সাহসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পথে পথ চলতে আপোসহীন ভূমিকা নিয়েছিলেন। জেনারেল এরশাদের জোরপূর্বক রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে নামেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৬ সালের এরশাদের পাতানো নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াদা করেছিলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কেউ যাবেন না। যারা যাবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে। সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনা গিয়ে জাতির কাছে জাতীয় বেঈমান হন।  আর  সাধারণ নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-জনতা তাকে আপোসহীন দেশনেত্রীর উপাদিতে ভূষিত করে। এরপর আরো ৫ বছর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বেগম খালেদা জিয়া অসহনীয় জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে চূড়ান্ত ‘গণআন্দোলন’ সংগঠিত করেন।

১৯৯০ সালে তার নেতৃত্বে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ডাকে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসে। ফলে এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। বেগম খালেদা জিয়ার গণআন্দোলন সফল হয়। ফিরে আসে গণতন্ত্র। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অস্থায়ী রাষ্ট্র্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। জয়ী হয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় অভিন্ন নদীর পানি প্রাপ্তিতে আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের অধিবেশনে বলিষ্ঠ কন্ঠে দাবি করেছিলেন পানির জন্য। দেশে বিরোধীদলের দাবির প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চাল করতে গিয়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমেই দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু হয়। ১৯৯৬ সালের  ১২ জুন প্রশাসনিক কারচুপির নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ১১৬টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নে ছায়া সরকার হয়ে কাজ করেছে।

২০০১ সালে জনগণের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার পান বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে পিতা-মাতার যোগ্য উত্তরসূরী বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখেছিলেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে বিএনপি সরকার। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তান্ডবে প্রকাশে রজপথে মানুষ হত্যা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ১/১১র পথ সৃষ্টি করে। দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ভেঙ্গে সেনা সমর্থিত কথিত ১/১১’র সরকার ক্ষমতা দখল করে। এ সময় রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র নিশ্চিত ধংসের মুখে দাঁড়ালেও সমস্ত ভয়কে জয় করতে গণতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে দেশবাসীর পাশে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার দুই পুত্র দীর্ঘদিন কুচক্রীর ষড়যন্ত্রে কারাগারে অসহনীয় নির্যাতনে ধুঁকেছেন। জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে দেয়া হয়েছে, যেন তিনি পিতার মতো জনগণের ঘরে ঘরে যেতে না পারেন, হাঁটতে না পারেন। নির্যাতনে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী জীবনে ছোটছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয় দেশনেত্রী নিজ অফিসে অবরুদ্ধ থাকাবস্থায়। শত চাপ ও নির্যাতনের মুখেও রাজনীতি ও দেশত্যাগ করেননি দেশনেত্রী।

১/১১’র সরকারের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েমের জন্য যখন মরিয়া হয়ে খুন, গুম, ক্রসফায়ার, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানাবিধ অপরাধ ও অপকর্মে লিপ্তকালীন বিগত সাড়ে ৫বছর ধরেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজেবির হত্যা, গুম ও গণগ্রেফতারের মাধ্যমে দেশে এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ ভোটার বিহীন একদলীয়  ৫ জানুয়ারির কলঙ্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। তখন দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বেগম খালেদা জিয়া আরেকবার লড়াইয়ের দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। অতীতেও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও অন্যায় দাবির মুখে কখনোই মাথানত না করার ঐতিহাসিক সত্যতা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার। নিজের কর্তব্য থেকে এক চুল সরে না আসা, দেশপ্রেম ও ভালবাসাকে আঁকড়ে ধরে দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষকে সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র আর বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখার শক্তি যুগিয়েছেন তিনি। বর্তমান আকুণ্ঠ দুর্নীতি নিমিজ্জিত স্বৈরাচারী সরকার একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে চিরস্থায়ী করার স্বপ্ন দেখছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকে রুখে দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে কান্ডারী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া জনগণকে এনে দেবেন আলোকিত দিন- এ বিশ্বাস সকলের।

বর্তমান বিনাভোেটের সরকার অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশকর্তী হয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাজানো রায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আটেকে রাখা হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা মামলায় জাল নথি তৈরি করে সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। একটি মামলায় জামিন হলে, অন্য মামলা মুক্তির পথে বাদ সাধছে বেগম খালেদা জিয়ার। আর এভাবেই পেরিয়ে গেছে ৬ মাস। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৩৬টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় জামিন এখনো বাকি। মুক্তির দাবিতে বিএনপি মানববন্ধন, অনশন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছে। ৭৩ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। গত ৫ জুন দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ ঘুরে মাটিতে পড়ে যাওয়া সত্তরোর্ধ্ব সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এতে পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। :

জন্ম দিবস উপলক্সে বিএনপির কর্মসূচি : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্ম বার্ষিকী উপলে আজ বুধবার সকাল ১১টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দলের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশে জেলা-উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও আশু রোগ মুক্তি কামনায় এই দোয়া মাহফিল হবে। : যুবদলের কর্মসূচী : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল করবে জাতীয়তাবাদী যুবদল। জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন সকল ইউনিটকে কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলে যুবদলের আয়োজনে আজ ১৫ আগস্ট দেশের সকল জেলা, মহানগর, থানা ও পৌর শাখায় যুবদল কর্তৃক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। : ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজার বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন। বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা মামলায় জাল নথি তৈরি করে সরকারের নির্দেশে নিম্ন আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে। রায়ের পর পরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের লালদালানখ্যাত ২২৮ বছরের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ৬ হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরনো কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর ৪ মাস ১০ দিন পর  স্যাতসেতে জরাজীর্ণ এই পরিত্যক্ত কারাগারেই ৬ মাস পার করছেন বেগম খালেদা জিয়া। সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়েন তিনি। ইবাদত বন্দেগি ও বই পড়ে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

বাংলাদেশ লুট করা টাকায় সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর একজন বাংলাদেশের সামিট গ্রুপের আজিজ খান!

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর অন্যতম বাংলাদেশের মোহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবার, খবর বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের। জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯১০ মিলিয়ন (৯১ কোটি) ডলার। বাংলাদেশি অর্থ-৭৬৭৫ কোটি টাকা। তিনি ও তার পরিবার আছেন ৩৪ নম্বরে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত আজিজ খান সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার প্রতিষ্ঠান, এবং তা সরকারের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে।

আজিজ খান হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের বড় ভাই।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাত ছাড়াও বন্দর, ফাইবার অপটিকস ও রিয়েল স্টেট খাতেও ব্যবসা আছে সামিট গ্রুপের। সামিট গ্রুপের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালকে সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন আজিজ খান। তার মেয়ে আয়েশা সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করেন।

৬৩ বছর বয়সী আজিজ খান ব্যবসা প্রশাসন নিয়ে পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ৩ সন্তানের জনক। তার পিতা ছিলেন সেনা কর্মকর্তা, যিনি পরে নির্মাণ খাতে জড়ান। সামিট গ্রুপ প্রথমে ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে নির্মাণ খাতে নজর দেয়।

হলের সামনে থেকে ঢাবি ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি !

খুবই কঠিন সময় অতিক্রম করছি: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন, আওয়ামী লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখন সময় মোটেই ভালো নয়। খুবই কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি। দেশ-বিদেশে সব পর্যায়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। মঙ্গলবার সকালে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি চারদিকে কোনো জনসমর্থন না পেয়ে এখন আন্দোলনে তারা ব্যর্থ হয়ে নানা ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিএনপি এবং তাদের দোসররা দেশে অস্থিতিশীলতার পরিবেশ এবং নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পাঁয়তারা করছে। তাদের এসব ষড়যন্ত্র দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে মোকাবেলা করতে হবে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য এ মুহূর্তের বার্তা।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সব সময় সাধারণ জনগণের পাশে থাকবেন, জনগণকে খুশি রাখবেন। এটা আমার অনুরোধ। আমরা উন্নয়ন করেছি। আপনাদের দায়িত্ব শুধু জনগণের পাশে থেকে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে তাদেরকে খুশি রাখা। যারা ভুল করেছেন, তারা সংশোধন হোন। এখনও সময় আছে সংশোধন হওয়ার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কারা কোথায় কি করেছেন, সব খবর আমার কাছে আছে। প্রতিনিয়ত আমি সব খবর পাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সব ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হবে। এ মুহূর্তে একমাত্র দলীয় ঐক্য ছাড়া আর অন্য কিছুই নয়। তিনি বলেন, ২৩টি ব্রিজ একসঙ্গে উদ্বোধন করার কাজ হাতে নিয়ে ঢাকা থেকে এলাকায় এসেছি।

 

নড়াইল, ঢাকার মামলায় ছয় মাস করে জামিন। আর দুই মামলায় জামিন হলেই মুক্ত হচ্ছেন খালেদা জিয়া

মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্য দেয়ার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। এ নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪টি মামলায় জামিন পেলেন। এখন আরও দুটি মামলায় জামিনের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ কামরুল হাসান খান (আসলাম)।

২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলাটি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।

কায়সার কামাল বলেন, “ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত গত ৭ অগাস্ট এ মামলায় জামিন নামঞ্জুর করলে সোমবার হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আজ শুনানি নিয়ে আদালত ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন।”

বিচারিক আদালত গত ৭ অগাস্ট খালেদা জিয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশে বলেছিল, “আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা পেন্ডিং আছে। তিনি এখনও এ মামলায় গ্রেফতার হননি। এ অবস্থায় আসামিপক্ষের জামিন শুনানির আবেদনটি রক্ষণীয় নয় বিধায় নামঞ্জুর করা হলো।”

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে আরও ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টিতে তিনি জামিন পেয়েছেন, বাকি আছে দুটি। একটি হচ্ছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং অপরটি হত্যা মামলা। বাকী দু’টি মামলায় জামিন পেলেই মুক্তি মিলবে। আইনজীবিদের আশা এদের আগেই হতে পারে তা।

‘আন্দোলন দমনের পর গ্রেপ্তার চলছে বাংলাদেশে’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গুরুতর আহত হওয়া ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার বক্তব্য, সে দেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার ইচ্ছা সোচ্চার হওয়ার। তবে তার ভয় কেবল বাছবিচারহীন গ্রেপ্তার নিয়েই নয়; তার আশঙ্কা হামলাকারীরা ফের এসে তাকে স্তব্ধ করে দিয়ে যাবে। এই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ‘আমাদেরকে ভাবতে দিন যে আমরা একা নই। এসব মাত্রাতিরিক্ত হচ্ছে।’
প্রকৃতপক্ষেই, এসব মাত্রাতিরিক্ত।
গত মাসের শেষের দিকে চলন্ত বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর হাজার হাজার শিক্ষার্থী সম্প্রতি রাজপথে নামে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল অধিকতর নিরাপদ সড়ক। পাশাপাশি, সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিতের দাবি ছিল তাদের। প্রতিবাদের শ্লোগানই ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’ তারা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাজপথ কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে দেয়। ১.৮ কোটি বাসিন্দার শহরকে স্তবির করে দেয়।
কিন্তু শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখায় সরকার। টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সাধারণ উদ্বিগ্ন নাগরিকেরা বেশ কয়েকদিন ধরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে ছবি ও ভিডিও পাঠাচ্ছেন। সেখানে শাসক দল আওয়ামী লীগের সমর্থক পরিচয়ধারী অনেককে ইউনিফর্ম পরিহিত স্কুল শিশুসহ প্রতিবাদকারীদের পেটাতে দেখা যাচ্ছে।
১৮ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী জানায়, ৩রা আগস্ট যখন সে ছবি তুলছিল, তখন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য পরিচয়ধারী একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়। তার ভাষ্য, ‘তারা আমার ক্যামেরা চাচ্ছিল।’ তাকে যখন লাঠি, পাইপ ও ছাপাতি দিয়ে মারা হচ্ছিল, তখন পুলিশ নিরবে দাঁড়িয়ে ছিল পাশে। তার ভাষ্য, ‘তারা (পুলিশ) কিছুই করেনি।’
এই হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার বদলে বাংলাদেশ সরকার সমালোচনা বন্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুজনের অ্যাকাউন্ট মনিটর করছে। সহিংস দমনপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে, এদের মধ্যে আছেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট শহীদুল আলম।
এসবের অবসান হওয়া জরুরী। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ শহীদুল আলম ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেয়া। সরকার সমর্থকরাসহ যারাই সহিংসতা ঘটিয়েছে তাদের সকলের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া। শিশুসহ প্রত্যেকের প্রতিবাদ করার অধিকার সমুন্নত রাখা। কারণ, অল্পবয়সী শিক্ষার্থীরা তো না-ই, কারোই সোচ্চার হওয়ার কারণে গ্রেপ্তার বা সহিংসতার ভয়ে থাকা উচিৎ নয়।

৩১ আগস্টের মধ্যে ৫ দফা না মানলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: আটককৃত শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি, হামলাকারীদের শাস্তি ও কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের প্রজ্ঞাপনসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এ দাবি মানতে তারা সরকারকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। না মানলে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিষদের নেতারা।

পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ছাত্র সমাজ মনে করে ৫ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার হলে ছাত্র সমাজ তথা সকলের কাছে অধিকতর যুক্তিসংগত হবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ৪ বার আলোচনা করেও কোন ধরনের কাজ না করে নির্যাতন-নিপীড়ন দমন পীড়নের কারণে সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের মনে বিরাট অনাস্থা ও সংশয় তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র সমাজ আরও মনে করে, কোটা সমস্যা সমাধানে বারবার কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণকে অজুহাত হিসেবে সামনে আনার বিষয়টি কেবল নতুন করে কালক্ষেপণের একটি পন্থা। অবিলম্বে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিয়ে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের আলোচনা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ  ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ৫টি দাবিদাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো- সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত নিয়োগে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক কোটা হ্রাস করে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া, একই পরিবারকে কোটার সুবিধা একাধিকবার না দেওয়া, কোটায় কোন বিশেষ নিয়োগ না দেওয়া ও সকলের জন্য অভিন্ন বয়সসীমা।

« Older Entries