তারেককে ফাঁসাতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলায় জেরা না করেই তড়িঘড়ি করে মুফতি হান্নানকে ফাঁসি দেয়া হয়!

ধরেন, আজ থেকে পাঁচ বছর পর যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম হত্যার বিচার চলছে। আমরা সবাই জানি যে সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন নিজ হাতে ইব্রাহীমকে গুলি করে হত্যা করেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে এবং শাওনের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে জানালেন- এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। চার্জশিটও দিলেন এই বক্তব্যের উপর।

কিন্তু এই চার্জশিট দেয়ার পর দুই বছর পর হুট করে সরকার পক্ষ থেকে বলা হলো ইব্রাহিম হত্যার অধিকতর তদন্ত করা হোক। আর সেই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলো বিএনপি সরকারের সময়ের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর সাহেবকে।

কোহিনূর সাহেবের দুইশ দিনের রিমান্ডে থাকার পর নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন একদিন কোর্টে এসে ১৬৪ ধারায় সম্পূরক জবানবন্দি দিয়ে বললো- ইব্রাহিম হত্যায় শেখ হাসিনা দায়ী, তিনি নিজে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কবে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই তারিখ, বা দিনক্ষণ মনে নাই আমার।

শেখ হাসিনা কি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের এই সাক্ষ্য মেনে নিবেন? আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা কি যাচাই করবে না এই সাক্ষ্য?

হ্যাঁ, অবশ্যই করবেন। এই যে একটা সাক্ষ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া, এই প্রক্রিয়াটাকে বলে “জেরা”, ইংরেজিতে cross examine।

জেরা হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া যেখানে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করে তাঁর সাক্ষ্যের সত্য-মিথ্যা আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এই জেরার কারণেই কেউ মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েও সহজে পার পেতে পারে না।

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মুফতি হান্নান ২০০৭ সালের ২ নভেম্বর যাদের নাম বলেছিলেন, ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের হাতে তিন বছরের অত্যাচারের পরে সেই নামগুলোর সাথে আরও অনেক নাম যোগ করে গেছে; যাদের মধ্যে তারেক রহমানসহ আছে বেশ বড় বড় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ। মুফতি হান্নানের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করেই এদেরকে মামলায় জড়ানো হয়। তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়।

কিন্তু হাস্যকর হলেও সত্য, মুফতি হান্নানকে কোন রকম জেরা করার সুযোগই পায়নি বিবাদী পক্ষ। মুফতি হান্নানের জেরার ঠিক আগে অন্য একটি মামলায় রায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। মুফতি হান্নানের জবানবন্দি সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণের কোন সুযোগই আর রাখা হয়নি। এমনকি মুফতি হান্নান জীবিত থাকা অবস্থায় রিমান্ড চলাকালীন সময় তার উপর চলা অবর্ননীয় নির্যাতনের বর্ননা দিয়ে সেই নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা ঐ ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের যে আবেদন করেছিল সেটাও বিবেচনায় নেয় হয়নি।

মুফতি হান্নান বলেছিলো হাওয়া ভবনে নাকি তারেক রহমানের সাথে মিটিং হয়েছিলো তার। শুধু তারেক রহমানের আইনজীবীরা যদি জিজ্ঞেস করতেন তাকে যে হাওয়া ভবন কয়তলা বলেন তো দেখি? তাহলেই প্রমাণ হয়ে যেত যে মুফতি হান্নান হাওয়া ভবনে যাওয়া তো দূরে থাক, ঐ ভবনের ১ কিলোমিটারের ভেতরেও কোনদিন যায়নি।

এভাবে অন্যায়ভাবে আজকে শুধু মুফতি হান্নানের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়ার পায়তারা চলছে। ভারতকে ইতোমধ্যে জানিয়েও দেয়া হয়েছে রায় কি হবে, যার উপর ভিত্তি করে পিনাক রঞ্জন লেখাও ছাপিয়ে ফেলেছেন যা এখন অনলাইনে যে কেউ পড়তে পারবে।

আওয়ামী লীগ এভাবে জেরার আগেই আসামি হত্যা করে নিরীহ মানুষদের ফাঁসানোর যে পথ দেখিয়ে দিল, সেই পথ কি কোনদিন বন্ধ করা যাবে?
/ফেসবুক থেকে

Content Protection by DMCA.com